শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

ট্রাম্পের নানা চেষ্টার পরও সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কোন্নয়ন কোথায় আটকে গেল

ট্রাম্পের নানা চেষ্টার পরও সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কোন্নয়ন কোথায় আটকে গেল

ট্রাম্পের নানা চেষ্টার পরও সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কোন্নয়ন কোথায় আটকে গেল

‘ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় সৌদি আরব’—এমন একটি কথাই হয়তো সম্প্রতি সৌদি যুবরাজের মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা হয়নি। গত নভেম্বর মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউস সফরে গেলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চুক্তিও হয়।

তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রসঙ্গ এলে মোহাম্মদ বিন সালমান বলে দেন, তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সুস্পষ্ট পথ নিশ্চিত হওয়াটা দেখতে চান। চলতি বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে সৌদি আরবকে বারবারই এমন অনড় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করাটা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার পর সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে আশা তৈরি হয়।

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে যখনই মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কোনো সমস্যার সমাধানের প্রশ্ন এলে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রসঙ্গটি সামনে চলে আসে। চলতি বছরও এ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দেখা গেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পকে চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। আর সৌদি আরব বারবারই অনড় অবস্থান দেখিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাংবাদিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক জাসিম আল–আজ্জাবি লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর ধরে শান্তভাবে চালানো প্রচেষ্টা, প্রতীকী পদক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের কূটনীতির পরও সৌদি আরব ও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক এখনো এগোয়নি। সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি স্থবির ও স্পষ্ট সত্য, তা হলো রিয়াদ চায় শান্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। কিন্তু ইসরায়েল তা দিতে রাজি নয়, আর ওয়াশিংটন নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য বারবার লক্ষ্য বদলাচ্ছে।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ফিলিস্তিনিরা অন্য জায়গায় পুনর্বাসিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং সেখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবে। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পরদিনই সৌদি আরব জানিয়ে দেয়, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে না।

এরপর ট্রাম্প গত মে মাসে সৌদি আরব সফরে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে উপসাগরীয় অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর এ সফরের মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়। বলা চলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর ছিল। যদিও এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে তিনি প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যে যোগ দিতে রোম সফরে গিয়েছিলেন। তবে সেটি পূর্বনির্ধারিত সফর ছিল না।

আরেকটি উল্লেখজনক বিষয় হলো, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছিলেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক সময়ের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম। দেশটির আধুনিককালের প্রেসিডেন্টরা প্রথম বিদেশ সফরের জন্য সাধারণত যুক্তরাজ্য, কানাডা ও মেক্সিকোকে বেছে নেন।

গত জুলাই মাসে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। ওই সময় ফ্রান্সের সঙ্গে মিলে জাতিসংঘের একটি উদ্যোগে অংশ নিয়েছিল সৌদি আরব। ওই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল, ইসরায়েল–ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক আলোচনা আবার শুরু করা।