সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া রণবীর সিং অভিনীত 'ধুরন্ধর' সিনেমাটির সমাপ্তি যেখানে হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হতে চলেছে এক ভয়ংকর রক্তের ইতিহাস। সিনেমার শেষে দেখা যায়, অপরাধ জগতের ডন রেহমান ডাকাত পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যান। কিন্তু সিনেমার একদম শেষ দৃশ্যটি আরও নাটকীয়।
সেখানে দেখা যায় রেহমানের ছোট ভাই উজায়ের তার ভাইয়ের হত্যাকারী হামজার বুকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। এই দৃশ্যটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬ সালে ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘ধুরন্ধর ২' সিনেমাটির গল্পের, যা বাস্তবের করাচি গ্যাংস্টার উজায়ের বালোচের জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
বাস্তবের উজায়ের লিয়ারি এলাকার ত্রাস
সিনেমার গল্পটি করাচির কুখ্যাত অপরাধী উজায়ের বালোচের জীবনের সাথে হুবহু মিলে যায়। ২০০৯ সালে রেহমান ডাকাত পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর, করাচির লিয়ারি এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেন উজায়ের। তবে, তার অপরাধ জগতে আসার পেছনে ছিল প্রতিশোধের আগুন।
২০০৩ সালে উজায়েরের বাবা ফয়েজ মুহাম্মদকে অপহরণ করে হত্যা করে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংস্টার আরশাদ পাপ্পু। বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্পর্কে তুতো ভাই রেহমান ডাকাতের দল যোগ দেন উজায়ের। এরপরই দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীতে পরিণত হন উজায়ের বালোচ।
আরশাদ পাপ্পুর প্রতি উজায়েরের ঘৃণা এতটাই তীব্র ছিলো যে, ২০১৩ সালে আরশাদকে হত্যার পর তার দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে রাস্তায় প্রদর্শন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উজায়ের ও তার সহযোগীরা আরশাদের বিচ্ছিন্ন মাথা নিয়ে ফুটবল খেলে উল্লাস করেছিল। এই ঘটনা করাচিতে এখনও ঘুরে বেড়ায়।
রাজনীতি ও অপরাধের অশুভ আঁতাত
সিনেমায় সঞ্জয় দত্ত অভিনীত চরিত্রটি বাস্তব জীবনের পুলিশ অফিসার চৌধুরী আসলাম খানের আদলে গড়া। বাস্তবেও উজায়ের বালোচের সাথে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ২০১২ সাল পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন উজায়ের। লিয়ারি এলাকায় তিনি নিজেকে ‘রবিন হুড’ হিসেবে জাহির করতেন, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল।
