ছাতকের ভাতগাঁও ইউনিয়নের পাগনার গ্রামে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে। সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় মেম্বার মনির মিয়া (৫৫) ও আমির আলী পক্ষের লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমির আলীর বাড়িতে বিকট শব্দে গান বাজানো হচ্ছিল। এতে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। লেখাপড়া ও ঘুমের সমস্যা হওয়ায় লন্ডনপ্রবাসী সিরাজ মিয়া (৫৫) গান বন্ধ করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে আমির আলী ও আয়না মিয়া উত্তেজিত হয়ে উঠলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।
উল্লেখ্য, আমির আলী ও লন্ডনপ্রবাসী আখতার মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। আখতার মিয়ার বাড়ি আয়না মিয়ার বাড়ির পাশেই অবস্থিত।
ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মানিক মিয়া (৪৫), দিলুয়ার হোসেন (৪০), মুজিবুর রহমান (২৫), এনামুল (২১) ও উসমান (২০)। আহতদের স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত দিলুয়ার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাতগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মনির মিয়া জানান, পাগনারপাড় গ্রামে উচ্চ শব্দে গান বাজানো পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। আখতার মিয়ার পরিবারের অভিযোগের পর পঞ্চায়েতের নির্দেশে সিরাজ মিয়াকে পাঠিয়ে আয়না মিয়াকে গান বন্ধ করতে বলা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আয়না মিয়া আখতার মিয়ার বাড়িতে হামলা চালান এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে আমির আলী দাবি করেন, মেম্বার মনির মিয়া গান বন্ধ করতে বলার পর তিনি বাড়িতে এসে স্পিকার বন্ধের চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর মেম্বারের ছেলে এসে লাথি মেরে স্পিকার ভেঙে ফেললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার কথা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাতক প্রতিনিধি
