দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সরাইখানায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ১১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন।
প্রাদেশিক ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে নয়জন লেসোথোর নাগরিক এবং একজন মোজাম্বিকের। আরেক সন্দেহভাজনকে দক্ষিণ আফ্রিকার খনি শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জোহানেসবার্গের কাছে বেকার্সডাল এলাকায় অবস্থিত সরাইখানাটিতে শনিবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টার দিকে অন্তত ১২ জন অজ্ঞাত বন্দুকধারী গুলি চালায়। ঘটনার পর পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
বিশ্বে হত্যার হারের দিক দিয়ে উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা। এখানে সাধারণত ডাকাতি, অপরাধচক্রের সহিংসতা, কথাকাটাকাটি বা ব্যক্তিগত বিরোধ- অর্থাৎ আর দশটি মনুষ্য সমাজে যা হয়, সেসব ঘটনা থেকেই হত্যাকাণ্ড হয়। যদিও প্রথমে হামলাটিকে ‘উসকানিহীন’ বলে মনে করেছিল পুলিশ, প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ খননকাজ নিয়ন্ত্রণ ঘিরে বিরোধের ইঙ্গিত মিলছে।
হামলার সময় লোকজন পালাতে থাকলেও বন্দুকধারীরা তাদের ওপর গুলি চালাতে থাকে। এতে দুজন নিহত হন। কাছাকাছি যাত্রী নামিয়ে যাওয়ার পথে এক ট্যাক্সিচালকও গুলিতে প্রাণ হারান।
গ্রেফতারের সময় সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে একটি একে–৪৭ রাইফেলসহ একাধিক লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকান গানওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গিডিওন জুবার্টের উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্তত সমপরিমাণ অবৈধ অস্ত্রও আছে।
গান ফ্রি সাউথ আফ্রিকার গবেষক ক্লেয়ার টেলর বিবিসিকে জানান, ২০২৫ সালে ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা কিছুটা যদিও কমেছে, ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি হামলায় চার বা তার বেশি মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব হামলার সাধারণ ঘটনাস্থলের মধ্যে অনুমোদিত সরাইখানা ও অবৈধ পানশালা উল্লেখযোগ্য।
সর্বশেষ হামলাটি প্রিটোরিয়ার সলসভিল হোস্টেলে আরেকটি আক্রমণের মাত্র দুই সপ্তাহ পর ঘটল, যেখানে তিন বছর বয়সী এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছিল।
