শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

রজব মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখবেন যেদিন

রজব মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখবেন যেদিন

রজব মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখবেন যেদিন

রোজা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম। সারা বছর রোজা রাখা সম্ভব হয় না কারও দ্বারা। তবে কেউ যদি প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখে তাহলে সে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। এই তিন দিন চাঁদ অনেক সাদা দেখায় তাই এ দিনগুলোকে আইয়ামে বিজ বা সাদার দিন বলা হয়।

 

হে আব্দুল্লাহ, তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা হয়ে যায়। (মুসলিম ২৬১৯)

 

প্রতি চান্দ্র মাসে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এ রোজাগুলো ছাড়তেন না। তিনি সব সময় আইয়ামে বিজের রোজা রাখতেন। এমনকি সফরেও। তবে রোজাগুলো ফজিলতপূর্ণ হলেও তিনি উম্মতের জন্য এ রোজাকে বাধ্যতামূলক করেননি। হাদিসে পাকে এসেছে,

তুমি যদি (প্রতি) মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাও, তাহলে তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরোতম দিনে রোজা রাখবে। (তিরমিজি, নাসায়ি)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) প্রতিদিন রোজা রাখতেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রতিদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেন এবং উপদেশ দেন এভাবে,

হে আবদুল্লাহ, আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন রোজা রাখো এবং সারা রাত নামাজ আদায় করে থাক। জবাবে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রসুল। নবীজি (স.) বললেন, এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) রোজা রাখো আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) নামাজ আদায় করো আবার ঘুমাও। কেননা তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে, তোমার চোখের হাক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার স্ত্রীর হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে। (বরং) তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা পালন হয়ে যায়। (বুখারি)

হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। এরপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে যায়। তাই এই তিন দিনকে আইয়্যামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় ১৪৪৬ হিজরির রজব মাসের ১৩ তারিখ হবে শনিবার (৩ জানুয়ারি)। কেউ যদি আইয়ামে বিজের রোজা রাখতে চায় তাহলে তাকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সেহরি খেতে হবে এবং রোজার নিয়ত করতে হবে। এভাবে শনিবার (৩ জানুয়ারি), রোববার (৪ জানুয়ারি) ও সোমবার (৫ জানুয়ারি) রোজা রাখলে এই মাসের আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত অর্জিত হবে-- ইনশাআল্লাহ।