শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

কাটা কান পায়ে বাঁচিয়ে রেখে পুনরায় মাথায় প্রতিস্থাপন

কাটা কান পায়ে বাঁচিয়ে রেখে পুনরায় মাথায় প্রতিস্থাপন

কাটা কান পায়ে বাঁচিয়ে রেখে পুনরায় মাথায় প্রতিস্থাপন

চীনের শল্যচিকিৎসকেরা এক অভাবনীয় ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক নারীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কান প্রথমে তার পায়ে প্রতিস্থাপন করে এবং পরবর্তীতে তা পুনরায় যথাস্থানে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। 

হংকংয়ের ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, জিনানের শানদং প্রাদেশিক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বিশ্বের প্রথম এই ধরনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। 

গত এপ্রিলে কর্মক্ষেত্রে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ওই নারীর কান শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি মাথার খুলির চামড়াও উপড়ে গিয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে প্রচলিত পদ্ধতিতে কানটি স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকেরা রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে কানটিকে সাময়িকভাবে ওই নারীর পায়ের ওপরের অংশে প্রতিস্থাপন করেন।

শল্যচিকিৎসক দলের প্রধান এবং হাসপাতালের মাইক্রোসার্জারি ইউনিটের উপপরিচালক কিউ শেনকিয়াং জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত নারীর মাথার টিস্যু এবং রক্তনালির জালিকা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে সরাসরি কান প্রতিস্থাপন করা তখন প্রাণঘাতী হতে পারত। 

পায়ের ধমনি ও শিরার গঠন কানের রক্তনালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় চিকিৎসকেরা এই ঝুঁকিপূর্ণ ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা ব্যাপি জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কানের অত্যন্ত সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোকে পায়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যার ব্যাস ছিল মাত্র ০.২ থেকে ০.৩ মিলিমিটার। এই মাসব্যাপী প্রক্রিয়ায় কানটিকে জীবিত রাখাই ছিল চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর শিরার রক্ত সঞ্চালনে জটিলতা দেখা দিলে কানটি কালচে-বেগুনি রঙ ধারণ করে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকেরা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এক কৌশল অবলম্বন করেন এবং পাঁচ দিন ধরে প্রায় ৫০০ বার নিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ করিয়ে কানটিকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। 

এরই মধ্যে অন্য এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর পেট থেকে চামড়া নিয়ে মাথার খুলির ক্ষত সারিয়ে তোলা হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর যখন মাথার ক্ষত শুকিয়ে যায় এবং পায়ে থাকা কানটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকে, তখন চিকিৎসকেরা চূড়ান্ত পর্যায়ের অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেন। গত অক্টোবরে প্রায় ৬ ঘণ্টার এক সফল মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে পায়ের সেই কানটি পুনরায় তার মাথায় যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়।

সান ছদ্মনামের ওই রোগী বর্তমানে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন এবং তার মুখমণ্ডল ও কানের টিস্যুর কার্যক্ষমতা এখন প্রায় স্বাভাবিক। যদিও তার ভ্রু পুনর্গঠন এবং পায়ের ক্ষতচিহ্ন কমানোর জন্য আরও কিছু ছোটখাটো অস্ত্রোপচার বাকি রয়েছে, তবে মূল জটিল পর্যায়গুলো সফলভাবে পার হওয়ায় এই ঘটনাকে বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসার্জারির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যায় উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি ও কারিগরি দক্ষতার এই সমন্বয় ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখাবে বলে চিকিৎসকেরা মনে করছেন।