মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বেশ কয়েকটি মামলায় বড় বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের রায়ে ২১টি অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, মালয়েশিয়ার '১এমডিবি' সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে তার অ্যাকাউন্টে ২.২ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত অবৈধভাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
বিচারক কলিন লরেন্স সিকুয়েরাহ রায়ে বলেছেন, অভিযুক্তের এই যুক্তি যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার বিরুদ্ধে থাকা ঠান্ডা, কঠিন এবং অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে তার যুক্তি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অভিযুক্ত '১এমডিবি'-তে তার নিজস্ব শক্তিশালী অবস্থানের (প্রধানমন্ত্রী পদের) অপব্যবহার করেছেন।'
মালয়েশিয়ার আইন অনুসারে, প্রতিটি অভিযোগের জন্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ১৫ থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রসিকিউটররা নাজিবের বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় আগে অভিযোগ এনেছেন, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করে প্রধানমন্ত্রী '১এমডিবি' উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তার পদের অপব্যবহার করেছেন।
২০২০ সালে নাজিবকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং '১এমডিবি' তহবিলের প্রায় ৯.৯ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তার সাজা কমিয়ে ছয় বছরে করা হয়।
তবে সর্বশেষ বিচারটি নাজিবের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। কারণ এতে সরাসরি অনেক বড় অঙ্কের অর্থ কেলেঙ্কারি হয়েছে।
কুয়ালালামপুর-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেমস চাইর মতে, নাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিধি সত্ত্বেও, কিছু মালয়েশিয়ানদের মধ্যে তিনি এখনো জনপ্রিয়। শুক্রবারের রায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঐক্য সরকারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকির কারণ হতে পারে। ইউএমএনও জোটের সদস্য, তবে দলটিকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই রায়ের পর এই প্রবণতা আরও বেড়ে উঠতে পারে।
