শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

২০২৫ সাল ঢালীউড এর জন্য ছিলো পাইরেসি, মানহীন চলচ্চিত্র ও ফাঁকা বুলির বছর।

২০২৫ সাল ঢালীউড এর জন্য ছিলো পাইরেসি, মানহীন চলচ্চিত্র ও ফাঁকা বুলির বছর।

২০২৫ সাল ঢালীউড এর জন্য ছিলো পাইরেসি, মানহীন চলচ্চিত্র ও ফাঁকা বুলির বছর।

দিন যায় নতুন দিন আসে, বছর ঘুরে আসে নতুন বছরও। পুরো বছরে নানা আশার বাণী শোনা যায়। কেটে যাবে হতাশা, আসবে সুদিন। কিন্তু সুদিন আর আসে না। বিগত এক যুগ ধরেই দেশীয় চলচ্চিত্র দর্শক-খরায় ভুগছে। সেটা এখন চলে এসেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২০২৫ সালটা চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। বাণিজ্যিক ও বিকল্পধারার ছবি মিলিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তথ্য মতে, ৪৭টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে খাতা-কলমের হিসাবে আমদানি করা ছবি (মিসিং) ছিল একটি। অবাক হওয়ার মতো বিষয় হচ্ছে প্রায় অর্ধশত সিনেমা মুক্তির এই বছরে দুই ঈদ ছাড়া কোনো সিনেমাই ব্যবসার মুখ দেখেনি। দুই ঈদেও যে ছবিগুলো তুমুল আওয়াজ উঠেছে সে সিনেমাগুলোও সিনেমা হল থেকে মূলধন তুলতে পেরেছে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির একাধিক দায়িত্বশীলরা।

তাদের ভাষ্য, যে সিনেমাগুলো অধিক মুনাফার আওয়াজ দিয়েছে খোঁজ নিয়ে দেখলে দেখা যাবে হল থেকে সেগুলো মূলধনই তুলতে পারেনি। তবে পরে টিভি রাইটস ও ওটিটি রাইটস বিক্রি করে সেখান থেকে লাভের মুখ দেখতে হয়েছে। 
৪৭ সিনেমার বছর

জানুয়ারিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘মধ্যবিত্ত, ‘মেকআপ, ‘কিশোর গ্যাং’ ও ‘রিকশা গার্ল’। ফেব্রুয়ারিতে প্রেক্ষাগৃহে এসেছে ‘জ্বলে জ্বলে তারা’, ‘ময়না’, ‘দায়মুক্তি’ ও ‘বলী’। এদের কারও কপালেই ব্যবসা জোটেনি। জোটেনি প্রশংসাও। 


ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বড় বড় বাজেটের ডজনখানেক সিনেমা মুক্তি পায়। সেখান থেকে বেশ কিছু সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে লাভের মুখও দেখে। অনেক সিনেমা লাভজনক না হলেও আলোচনায় উঠে আসে। গত বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় বরবাদ, জংলি, দাগি, চক্কর, অন্তরাত্মা, জ্বীন ৩ নামের ছয়টি ছবি। এর মধ্যে আলোচনার তুঙ্গে ছিল শাকিব খান অভিনীত বরবাদ সিনেমাটি। এই অভিনেতার অন্য সিনেমা অন্তরাত্মা ছিল একেবারে তলানিতে। বলতে গেলে সিনেমাটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। না ব্যবসা না, আলোচনা কিছুই পায়নি। তবে বরবাদ সিনেমার প্রযোজক দাবি করেছে তাঁর সিনেমাটি ব্যবসা সফল। যদিও ১৫ কোটি বাজেটের এই সিনেমা কতটা ব্যবসা করেছে সে হিসেবে আজও জানাতে পারেননি প্রযোজক। তবে সিনেমাটির নির্মাণ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও গল্প বলার ভিন্নতা সব মিলিয়ে গত বছরের সেরা সিনেমার তকমা যেন ছিনিয়ে নেয়।

অন্যদিকে সিনেমা আহমেদ অভিনীত ‘জংলি ছিল এই ঈদের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। সিনেমাটি দিয়ে নতুন করে প্রাণ পায় নায়ক। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে এই সিনেমাও ব্যবসা সফল। সিনেমা হল থেকেই মূলধনসহ লাভ তুলে এনেছে। আফরান নিশো অভিনীত দাগি সিনেমাটিও দারুণ আলোচনায় ছিল গত ঈদে। সিনেমাটির প্রযোজক তো মুক্তির সপ্তাহখানেক পরই ব্লকবাস্টার হিট বলে দাবি করেন। একই ঈদে মোশাররফ করিম অভিনীত ‘চক্কর’-এর ভাগ্যে জুটেছে কেবল প্রশংসা। তবে সিনেমাটি সিনেমা হলে আরও বেশি শো পেলে চিত্র পাল্টে যেত বলে দাবি প্রযোজকের। গত ঈদে হতাশার নাম হচ্ছে ‘জ্বীন থ্রি’। না আলোচনা না ব্যবসা-কোনোটিই জোটেনি এর ভাগ্যে। 
 
কোরবানীর  ঈদে শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন দর্শক। কিন্তু প্রত্যাশা থাকলেও পাইরেসির কারণে সিনেমাটি ব্যবসায় সুবিধা করতে পারেনি। তবে শাকিব খানের তামাটে লুক, জয়া আহসানের উপস্থিতি, নায়িকা হিসেবে সাবিলা নূরের অভিষেক, সিয়াম-নিশোর ক্যামিও। সব মিলিয়ে সিনেমাটি ছিল দারুণ আলোচিত। এই ঈদের সর্বাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা ছিল ‘উৎসব’। নব্বই দশকের গল্প, তারকাবহুল অভিনয় আর নির্মাণে দর্শকদের জমিয়ে তুলছিল সিনেমাটি। একই উৎসব ‘ইনসাফ’-এ শরিফুল রাজের বাণিজ্যিক প্রত্যাবর্তন ও তাসনিয়া ফারিণের নাম আলোচনায় থাকলেও ব্যবসায়িক সফলতা আসেনি। সময়োপযোগী বিষয়বস্তু নিয়ে ‘নীলচক্র’ নির্মাণ হলেও সিনেমাটি ব্যবসার মুখ দেখেনি। একই চিত্র ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’এর বেলাতেও। এই ঈদের হতাশা হচ্ছে ‘টগর’। না আলোচনা না ব্যবসা– কোনোটিই জোটেনি এর ভাগ্যে। 

দুই ঈদের মাঝের মে মাসে মুক্তি পায় জয়া আর শারমিন ও আন্তঃনগর। ঈদুল আজহার পরের মাস জুলাইতে ‘অন্যদিন’, ‘আলী’ আগস্ট মাসে‘উড়াল’ ও ‘জলরঙ’-এর কোনোটিই সাফল্য পায়নি। সেপ্টেম্বরে ‘বাড়ির নাম শাহানা’ ‘সাবা’, ‘ফেরেশতে’, ‘উদীয়মান সূর্য’, ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’, ‘আমার শেষ কথা’, ‘ডট’, ‘নন্দিনী’– কোনোটির ভাগ্যেই সাফল্য জোটেনি। 

অক্টোবরে বান্ধব, ব্যাচেলর ইন ট্রিপ, অন্ধকারে আলো, ডাইরেক্ট অ্যাটাক, সাত ভাই চম্পা, কন্যা, বেহুলা দরদী’ সিনেমা মুক্তি পায়। কিন্তু এইসব সিনেমা কখন মুক্তি পায় তা যেন দর্শকও জানেনি। নভেম্বরে তাওকীর ইসলামের প্রথম সিনেমা ‘দেলুপি’ মুক্তি পায়। প্রশংসা পেলেও ব্যবসা করেনি। একই মাসে ‘সাইলেন্স: আ মিউজিক্যাল জার্নি’, ‘মন যে বোঝে না’, ‘গোয়ার’ মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো কেবল সংখ্যাই বাড়িয়েছে। বছরের একেবারে শেষের মাস ডিসেম্বরে মুক্তি পেল ‘খিলাড়ী’। বরাবরের মতোই  হতাশা দিয়েই শেষ হলো ২০২৫ সাল।