ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলামিন (১৯) নামে কারাগারের হাজতীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।
নিহত আলামিন নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের হাজতি নম্বর ১২৫৫৪/২৫।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর নবীনগর থানার একটি চুরির মামলায় (মামলা নম্বর ১৫, তারিখ ১৫-১১-২৫, ধারা ৪৫৭/৩৮০ দণ্ডবিধি) তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহতের বোন রিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “গত বৃহস্পতিবার নাসিরাবাদ এলাকা থেকে আমার স্বামী কুদ্দুস মিয়া ও ছোটভাই আলামিনকে আলিয়াবাদের কিছু লোক চোর সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আজ আমার ভাই মারা গেল।”
কারা চিকিৎসক ডা. শাখাওয়াত হোসেন তানভীর জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে আলামিন অসুস্থতা অনুভব করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালে স্থানান্তর করে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা ১ মিনিটে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে মেডিসিন ওয়ার্ডের চতুর্থ তলায় ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুসনদে নিউমোনিয়া (Pneumonia) উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার মো. উবায়দুর রহমান জানান, হাজতীর মৃত্যু হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
