৩ জানুয়ারি, ২০২৬ কক্সবাজার শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু দূরেই বাঁকখালী নদীর মোহনায় গড়ে উঠেছে পর্যটনের নতুন এক আকর্ষণ— খুরুশকুল সংযোগ সড়ক। ভোরের আলো ফুটতেই এই সড়ক এখন মুখরিত হয়ে ওঠে পর্যটক আর স্থানীয়দের পদচারণায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক উন্নয়ন আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে এই এলাকায়।
ভোরের আকর্ষণ টাটকা খেজুর রস
শীতের সকালে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খুরুশকুলের টাটকা খেজুর রস। খুরুশকুল ব্রিজের দক্ষিণ পাশে রাস্তার ধারেই গাছিরা গাছ থেকে নামানো তাজা রস বিক্রি করছেন। পর্যটকরা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসছেন এক গ্লাস খাঁটি খেজুর রসের স্বাদ নিতে।
উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি: আশ্রয়ন প্রকল্প ও বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র
এই সড়কের পাশেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্প’। জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত এই আধুনিক আবাসন এলাকাটি এখন পর্যটকদের দেখার মতো একটি দর্শনীয় স্থান। এর পাশাপাশি দিগন্তজুড়ে দেখা যায় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশালাকার পাখা, যা নবায়নযোগ্য শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সাগরের নীল জলরাশি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মাঝে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এলাকায় এক ভিন্নধর্মী নান্দনিকতা যোগ করেছে।
যাতায়াত ও নিরাপত্তা
কক্সবাজার শহরের খুব কাছে হওয়ায় পর্যটকরা সহজেই টমটম বা অটোরিকশা নিয়ে এই সংযোগ সড়কে চলে আসতে পারেন। ভোরের কুয়াশাভেজা প্রকৃতি আর নির্মল বাতাস উপভোগ করার জন্য এটি এখন কক্সবাজারের অন্যতম সেরা ‘মর্নিং স্পট’।
পর্যটকদের মতে, সঠিক প্রচার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে খুরুশকুল সংযোগ সড়ক এলাকাটি কক্সবাজারের মূল সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি একটি বিকল্প এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।
