বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান হবেন দেশের কর্ণধার।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, “গণতন্ত্রের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে ১৬ বছর ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন সম্ভাবনার প্রতি আস্থা রাখছে। এই বিশ্বাস শুধু অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তা বাস্তবে প্রমাণিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করতে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। “এই ঐক্যের মাধ্যমেই বাংলাদেশ রক্ষা পাবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ সম্ভব হবে।”
শামসুজ্জামান দুদু বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। তবে পতিত সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং গুরুতর অসুস্থ থাকার পরও যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তার নেতৃত্বে কন্যাসন্তানরা বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প, কৃষি ও অন্যান্য খাতেও তার অবদান গবেষণার দাবি রাখে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা পরিচালনা করতে।
দুদু কৃষিক্ষেত্রেও বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন, যা পূর্বে স্বৈরশাসক এরশাদের সময়ে হয়নি।
তিনি আরও স্মরণ করান, মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম খালেদা জিয়া তার দুই সন্তানকে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন। তবুও মাথা নত করেননি। কারণ তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।
দোয়া-মাহফিলে শামসুজ্জামান দুদু বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় আয়োজক কমিটির সভাপতি নূর আফরজ বেগমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
