ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ‘সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে’ তাকে নিকোলাস মাদুরোর চেয়েও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে-এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মতো অন্যান্য দেশেও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“যদি সে (ডেলসি রদ্রিগেজ) ঠিক কাজ না করে, তাহলে তাকে খুব চড়া মূল্য দিতে হবে-সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বেশি।”
এর আগে কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার পর ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের প্রশংসা করেছিলেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়, যখন রদ্রিগেজ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম অধিকার রক্ষার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন।
এর পরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রদ্রিগেজ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতায় এগিয়ে না আসেন, তাহলে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেলসহ প্রাকৃতিক সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ প্রয়োজন।
মাদুরোকে শক্তি প্রয়োগ করে আটক করার সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই দিয়ে ট্রাম্প বলেন,
“আপনি একে পুনর্গঠন বলুন বা শাসন পরিবর্তন-বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে এটা ভালো। এর চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে না।”
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গলফ কোর্সে পৌঁছানোর সময় টেলিফোনে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার মতো অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি ডেনমার্কের অংশ ও ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের কথাও উল্লেখ করে বলেন,
“আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।”
কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ধ্বংসের পথে রয়েছে। তার মতে, ভেনেজুয়েলার ভর্তুকিপ্রাপ্ত তেল না পেলে কিউবার পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে। তিনি বলেন,
“আমার মনে হয় না সেখানে আলাদা কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। কিউবা এমনিতেই ভেঙে পড়ছে।”
একই সঙ্গে কলম্বিয়া ও মেক্সিকোকেও সতর্ক করেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, মার্কিন অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক’ সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মার্কিন বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করার পর তিনি টেলিগ্রামে এক বার্তায় লেখেন,
“যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্কের দিকে এগোনো আমাদের অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, যৌথ উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতার একটি এজেন্ডায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ভেনেজুয়েলা।
অভিযানের পর নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্ক সিটির উত্তরের একটি ছোট বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাকাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত তাদের বাসভবন থেকেই এই অভিযান পরিচালিত হয়, যাকে মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় এই নাটকীয় অভিযান মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ ও কয়েক মাসের গোপন পরিকল্পনার ফল। অনেকেই এটিকে ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসনের পর শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা এর আইনগত বৈধতা নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
