রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাদুরোর ঘটনা কি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

মাদুরোর ঘটনা কি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

মাদুরোর ঘটনা কি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে দেশটির অভিজাত কমান্ডো ডেল্টা ফোর্স ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে তাঁর বাসভবন থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

মাদুরোকে বন্দি করার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলি রাজনীতিবিদ ইয়ার লাপিদ তেহরানকে সতর্ক করেছেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি কড়া নজরদারির দাবি করছে। ট্রাম্প এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক এবং ইরানের ওপর নতুন হামলার হুমকি দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, “এই নতুন আইনহীনতা বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। যদি ট্রাম্প বা ইসরাইল এমন পদক্ষেপের পথে এগোতে থাকে, তবে ইরানও সামরিক প্রতিক্রিয়া দিতে সাহস পাবে।”

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি মনে করছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন পদক্ষেপ কূটনৈতিক সুযোগ সংকুচিত করছে। তিনি বলেন, “তেহরান এখন এমন আলোচনায় আগ্রহী নয় যেখানে আগেভাগেই তাদের পূর্ণ আত্মসমর্পণ দাবি করা হচ্ছে। ফলে সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।”


ইরান-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

মাদুরো অপহরণের আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য জানাচ্ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ ওয়াশিংটনের অধীনে থাকা উচিত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, মাদুরো ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ভেনেজুয়েলা ইরানের সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে। বিশেষত সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর দুর্বল হওয়ার পর, মাদুরোর বিদায় ইরানের মিত্রদের বলয় সংকুচিত করতে পারে।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন।”


ট্রাম্পের হুমকি ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাবে। তিনি বলেছেন, “আমরা প্রয়োজনে সরাসরি আঘাত হানবো।”

মাদুরো অপহরণের পরও ভেনেজুয়েলায় বর্তমান শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মাদুরোই দেশের একমাত্র নেতা। ট্রাম্পও রদ্রিগেজকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তার দাবি মানা না হলে ভেনেজুয়েলায় আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর দ্বিধা করা হবে না।

রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনের মতো সমালোচকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা যুদ্ধের সময় ইরান বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।