যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের পর কিউবা, ইরান, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও ডেনমার্ককে সতর্ক করেছে। ট্রাম্পের ভাষ্যে, যদি এ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ চ্যালেঞ্জ করে, চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।
গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বাহিনী আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পশ্চিম গোলার্ধে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “মার্কিন আধিপত্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ আর মানা হবে না।” তিনি আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেখানে রাশিয়া ও চীনা জাহাজের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয় হতে হবে।
ট্রাম্প বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন কলম্বিয়া, কিউবা, মেক্সিকো ও ইরানকে।
কিউবা: ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি ‘পতনের পথে’।
মেক্সিকো: সীমান্তে মাদক কার্টেল দমন করতে ব্যর্থ হওয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি।
কলম্বিয়া: মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ‘যেকোনো পদক্ষেপ’ নিতে হবে।
ইরান: সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ট্রাম্পের মতকে সমর্থন করে বলেন, হাভানার সরকার বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার সূচনা করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার এই নাটকীয় গ্রেফতার অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ এবং কয়েক মাসের গোপন পরিকল্পনার ফল। ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসনের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শাসন পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
