ভেনেজুয়েলার সদ্য ক্ষমতাচ্যুত বামপন্থি নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা সরাসরি রাজধানী কারাকাসে প্রবেশ করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, হেগসেথের বক্তব্য অনুযায়ী গত সপ্তাহের শেষদিকে চালানো এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বাহিনী মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। এর মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, নিকোলাস মাদুরো একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্র পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র আগেই পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
ভার্জিনিয়ায় মার্কিন নৌসেনা ও জাহাজ নির্মাণশ্রমিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে পিট হেগসেথ বলেন, “কারাকাসে আমাদের প্রায় ২০০ জন সাহসী সেনা সদস্য অভিযানে অংশ নিয়ে মার্কিন আদালতে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। এই অভিযান সম্পূর্ণ সফল হয়েছে এবং এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”
এই প্রথম কোনো মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কারাকাস অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা জানালেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযানে হেলিকপ্টারসহ প্রায় দেড় শতাধিক সামরিক বিমান ব্যবহার করা হয়। অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তা অকার্যকর করে দেওয়া হয়।
নিজেকে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নেতা হিসেবে তুলে ধরলেও নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে কঠোর হাতে দেশ শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছিল।
এদিকে সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হলে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
