মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষা—বিশেষত চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষায় কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা উন্নয়নে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারী বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রীরা— মাননীয় ড. আলী হায়দার আহমেদ এবং মাননীয় আব্দুল রহিম হাসান। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কারিগরি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যা আলোচনাগুলোর উচ্চ গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম, তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (MoHFW) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (BPMCA)-এর প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে এমবিবিএস, বিডিএস ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা পূরণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার মান, ব্যয়-সাশ্রয়ী কাঠামো ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে জানায় যে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১১২টি মেডিকেল কলেজে মোট ১১ হাজারের বেশি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ আসন বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
আলোচনার একটি বিশেষ দিক ছিল মালদ্বীপের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের সহজীকৃত নীতি, যার আওতায় বাংলাদেশে পড়াশোনা সম্পন্নকারী মালদ্বীপের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের মালদ্বীপে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো অতিরিক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় না। এটি বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার মানের প্রতি আস্থার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি সম্পূর্ণ অর্থায়িত সরকারি বৃত্তি প্রদান করে, যার মধ্যে ৬টি এমবিবিএস ও ১টি ডেন্টাল বৃত্তি অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আরও জানায় যে, কাঠামোবদ্ধ ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি গ্রামীণ ক্লিনিক ও হাসপাতালভিত্তিক ইন্টার্নশিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা মালদ্বীপের দ্বীপভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক হবে। বর্তমানে ৬৫ জন মালদ্বীপের মেডিকেল ইন্টার্ন বাংলাদেশে প্রশিক্ষণরত রয়েছেন এবং চলতি বছরে ৮০টির বেশি ইন্টার্নশিপ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।
মালদ্বীপ পক্ষ এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে।বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেন, যা বাংলাদেশ–মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।