শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

শীতের শুরুতেই সমুদ্রে মাছের টান, দুশ্চিন্তায় উপকূলের জেলে–ব্যবসায়ীরা

শীতের শুরুতেই সমুদ্রে মাছের টান, দুশ্চিন্তায় উপকূলের জেলে–ব্যবসায়ীরা

শীতের শুরুতেই সমুদ্রে মাছের টান, দুশ্চিন্তায় উপকূলের জেলে–ব্যবসায়ীরা


শীত মৌসুম শুরু হতেই নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রে মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন একের পর এক মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে ফিরলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ না পাওয়ায় আড়তগুলোতে উঠছে খুবই সীমিত সরবরাহ। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।


জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে ১০–১২ দিন সমুদ্রে অবস্থান করলেই ভালো পরিমাণ মাছ মিলত, সেখানে এখন ১৫ থেকে ২০ দিন থেকেও কাঙ্ক্ষিত আহরণ সম্ভব হচ্ছে না। অল্প পরিমাণে লইট্টা, পোয়া, ইলিশ ও কোরাল ধরা পড়লেও তা দিয়ে জ্বালানি, খাবার ও শ্রমিকের খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট কবে কাটবে—সে আশায় দিন গুনছেন উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার।


সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মাছের আড়তই বন্ধ। যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানেও নেই স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা। মাছের অভাবে শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ঘাটজুড়ে অনুপস্থিত পরিচিত হাকডাক আর ক্রেতা–বিক্রেতার কোলাহল। কোথাও সামান্য মাছ উঠলেই মুহূর্তের মধ্যে সেখানে ভিড় জমছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক সাধারণ ক্রেতা আগ্রহ থাকলেও কিনতে পারছেন না। ফলে পুরো ঘাটজুড়ে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে।


জেলে আবুল কাশেম খবরের কাগজকে  বলেন, নদী ও সাগরে মাছ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। খরচের তুলনায় আয় না হওয়ায় দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়ছে। পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।


অন্যদিকে মাঝি মো.রহিম উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া খাবার ও মালামালের তুলনায় মাছ মিলছে তার সামান্য অংশও নয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। সাগরের কাছে থেকেও মাছের অভাবে আমরা অসহায়।


মাছ ব্যবসায়ীরাও একই সংকটে ভুগছেন। বেপারি আব্দুল করিম  বলেন, জেলেরা প্রায়ই খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন। আড়তে বসে থেকেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যা আসে, তাও আকারে ছোট। বিশেষ করে ইলিশের তীব্র আকাল চলছে।


আড়তদার মো. আকবর হোসেনের  বলেন, গত দুই বছর ধরে শীত মৌসুমে মাছের পরিস্থিতি ভয়াবহ। আগে বর্ষায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও এখন সেটাও নেই। জেলে ও ব্যবসায়ী সবাই দেউলিয়ার পথে।


এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, শীতকালে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ মাছ ধরা বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কম্বিং অপারেশন চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেদের জীবনমানের উন্নতি হবে।