যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, সে তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্তে তালিকার আকার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশের তালিকায় সাতটি দেশ যুক্ত করার এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশিদের জন্য নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর
ভিসা বন্ডের শর্তে যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাবেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তাদের প্রবেশ ও প্রস্থান নির্দিষ্ট করে তিনটি বিমানবন্দর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)
জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)
ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
এই তিন বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করতে পারবেন না।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিমানবন্দর ব্যতীত অন্য কোনো পথ ব্যবহার করলে তা ভিসা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড মূলত এক ধরনের আর্থিক জামানত বা নিশ্চয়তা, যা কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করে থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো—ভিসাধারীরা যেন নির্ধারিত শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট (অস্থায়ী) ভিসা প্রদান করে। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়সীমার বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
সাধারণত অধিকাংশ দেশ ভিসার সময় আবেদনকারীর পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। তবে ফেরতযোগ্য জামানত নিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা খুব কম দেশেই চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করলেও পরে তা বাতিল করে। একইভাবে যুক্তরাজ্য ২০১৩ সালে কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
