শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

টানা শীতে বিপর্যস্ত হাতিয়া, সবচেয়ে দুর্দশায় নিম্ন আয়ের মানুষ

টানা শীতে বিপর্যস্ত হাতিয়া, সবচেয়ে দুর্দশায় নিম্ন আয়ের মানুষ

টানা শীতে বিপর্যস্ত হাতিয়া, সবচেয়ে দুর্দশায় নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর জেলা উপজেলা হাতিয়া। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতার সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্মহীনতা, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ।


জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, নোয়াখালীতে চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূর্যের অনুপস্থিতিতে শীতের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।


সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে হাতিয়ার সড়ক, হাট-বাজার ও নদীঘেরা চরাঞ্চল। ফলে রিকশাচালক, দিনমজুর, জেলে ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে বের হতে পারছেন না। আয় বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার চরম সংকটে পড়েছে।


বিশেষ করে হাতিয়ার চরাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে দুর্ভোগের চিত্র আরও ভয়াবহ। শীতবস্ত্রের তীব্র সংকটে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা কাঁপছে ঠান্ডায়। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত না পৌঁছানোয় এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


হাতিয়া উপজেলার পূর্ব চরচেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ উদ্দিন বলেন,আমরা দ্বীপ এলাকায় থাকি বলে আমাদের খবর খুব কমই কেউ নেয়। কাজ নেই, খাবার নেই, শীতের কাপড়ও নেই। রাতে অনেকেই ঠান্ডায় ঘুমাতে পারে না।


নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, নদীতে মাছ নেই, উপরে কাজ নেই। সারাদিন কুয়াশা আর ঠান্ডা। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে।


নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে অবস্থান করছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত আরও তীব্র মনে হচ্ছে।


এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলা উদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে চাহিদা অনেক বেশি। সমাজের বিত্তবান ও স্বচ্ছল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।টানা শীতের এই কঠিন সময়ে উপকূলীয় হাতিয়ার নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।