মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ১ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ১ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ১ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

ডেনমার্কের কাছ থেকে খনিজসমৃদ্ধ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিজেদের দখলে নিতে এক অভাবনীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে ওয়াশিংটন। 

মূলত ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে দ্বীপবাসীদের প্রলুব্ধ করতেই এই ‘ঘুষ’ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই মার্কিন এই প্রস্তাবকে ‘ফ্যান্টাসি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং সাফ জানিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিক্রিয়ায় চরম সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায় তবে সেখানে মোতায়েন ডেনিশ সেনাদের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। 

১৯৫২ সালে করা ডেনিশ সেনাবাহিনীর একটি নিয়ম অনুযায়ী, বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে সেনারা ঊর্ধ্বতন কমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিক হামলা চালাতে পারবে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর গ্রিনল্যান্ড দখলেও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেওয়ায় ডেনমার্ক এই অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আর্কটিক অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তার খাতিরে গ্রিনল্যান্ডকে ‘প্রয়োজন’ বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দ্বীপটি দখলে নিতে সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের বিকল্পও তাঁর হাতে রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। 

তবে এই উত্তেজনার মাঝে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্স ফ্রেদেরিক নিলসেন ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে এই নিয়ে আর কোনো আলোচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হতে আগ্রহী হলেও তাঁরা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যেতে চায় না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেন, তবে তা নেটো জোটে বড় ধরনের ফাটল তৈরি করবে। ইতিমধ্যে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটনের এমন একতরফা আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। 

খনিজ সম্পদে ভরপুর এই বিশাল দ্বীপটির অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের এই বিরোধ বর্তমানে এক বিপজ্জনক সামরিক উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। একদিকে বিপুল অর্থের টোপ আর অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি—এই দ্বিমুখী চাপে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।