বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে এই চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।
কুয়ালালামপুরে স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া এফটিএ আলোচনায় ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসে। ইতোমধ্যে চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শর্তে দুই দেশ নীতিগতভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
হাইকমিশনার জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু পণ্য আমদানি–রপ্তানিই নয়, বরং বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্পখাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ বাড়বে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার এবং মালয়েশিয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদার নিশ্চিত করবে।”
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়।
বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পাম অয়েল, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি হয়, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় তৈরি পোশাক, জুতা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।
হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশকে কেবল শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহকারী দেশ হিসেবেও মালয়েশিয়ার সামনে তুলে ধরতে কাজ করছে সরকার।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকরাও দেশটির উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, যেই সরকারই গঠিত হোক না কেন মালয়েশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার।
৫৪ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রফিকুল ইসলাম
মালেশিয়া প্রতিনিধি
