শীত মৌসুমে সব ধরনের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে ক্রেতাদের অস্বস্তি কাটেনি। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি তুলতে পারছেন না। তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে বাজারে সবজির দাম কমতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাঝারি আকারের ফুলকপি যেখানে আগে ১৫–২৫ টাকায় পাওয়া যেত, সেখানে এখন প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩৫–৪০ টাকায়। প্রতিকেজি মুলার দাম ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৬০ টাকায়। ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। আলুর দামও কিছুটা বেড়ে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শালগম, পেঁপে ও ব্রকলির কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বছরের এই সময়ে সাধারণত টমেটোর দাম তুলনামূলক কম থাকে। তবে বর্তমানে বাজারে পাকা, কাঁচা ও আধাপাকা—সব ধরনের টমেটোই বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। যেখানে গত সপ্তাহেও পাকা টমেটো পাওয়া গিয়েছিল ৮০ টাকায়। ঢ্যাঁড়শ ও পটল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়।
প্রোটিনজাত পণ্যের দামে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহের মতোই প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা।
মাছের বাজারে প্রতিকেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৩০ টাকায় এবং কৈ মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া রুই মাছের কেজি ৩২০ থেকে ৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০ থেকে ৪৪০ টাকা এবং শিং মাছ ৩৪০ থেকে ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চালের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চায়ের দামও কিছুটা বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, রশিদ মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল, যা আগে কেজিতে প্রায় ৬৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর উন্নতমানের মিনিকেট চালের দাম বেড়ে কেজিতে ৮৫ থেকে ৮৬ টাকায় পৌঁছেছে।
দেশি নাজিরশাইল চাল বর্তমানে কেজিতে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩ থেকে ৪ টাকা কম। আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দামও বেড়ে কেজিতে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭২ থেকে ৭৫ টাকা।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখনও তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যে রয়েছে এবং ডিম ও মুরগির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই।
