ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল এলাকায় আগের দিনের দাঙ্গার রেশ ধরে রোববার দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। দাঙ্গার আশঙ্কায় অরুয়াইল বাজারে দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১১টার পর ধামাউড়া ও রানীদিয়া গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোটা হাতে অরুয়াইল বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সেতরা নদীর উত্তর পাড়ে বিএডিসি মাঠে ধামাউড়া গ্রামের লোকজন এবং দক্ষিণ পাড়ে রানীদিয়া গ্রামের মানুষ দলবেঁধে অবস্থান করে। ফলে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
উত্তেজনার কারণে সাপ্তাহিক হাটবারেও বাজারে কোনো ব্যবসা হয়নি। ব্যাংকগুলোতে লেনদেন ছিল প্রায় বন্ধ। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। বাজারের রাস্তায় আগের দিনের সংঘর্ষে ব্যবহৃত ইট-পাটকেল ও কাঁচের টুকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌ-মালিক সমিতি গঠনকে কেন্দ্র করে রানীদিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক ও ধামাউড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। শনিবার দুই গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শনিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরও রোববার দিনভর এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দও পরিস্থিতি শান্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
