আজ ২০ জানুয়ারী ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনে অন্তত ৪৫০টির বেশি ঘর, ১০টি স্কুল, ২টি মসজিদ ও একটি মক্তব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ।
ধারণা করা হচ্ছে, একটি ব্লকের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় । ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের একটি লার্নিং সেন্টার থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের বসতঘর ও শেডে ছড়িয়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কঠোর চেষ্টার পরও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
রোহিঙ্গা নেতা নুর মোহাম্মদ জানান, আগুনে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, জামাকাপড় ও ব্যক্তিগত সম্পদ হারিয়েছে। এখন তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মানবিক সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্যাম্পে থাকা শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের অবস্থাও উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজারের ৪ নম্বর ক্যাম্পের একটি হাসপাতাল আগুনে পুড়ে যায়। এর আগের রাতে ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও অন্তত ১০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ক্যাম্পগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয় দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এ কাজে জোরদারভাবে নিয়োজিত। ত্রাণ বিতরণ, পানি ও খাবার সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
আগুনের কারণে ক্যাম্পের সামাজিক ও শিক্ষাগত কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। লার্নিং সেন্টার ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, আগুনের ঘটনা নতুন নয়, তবে প্রতিবারের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত থাকার কারণে ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
