যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৫ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক বুঝে নেন।
প্রতীকপ্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির দুই নেতা রয়েছেন। যাদের একজন বিদ্রোহী (যশোর-৫) এবং আরেকজন (যশোর-২) আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও রিটার্নিং অফিসার বলছেন, তিনি কোনো কাগজপত্রই দাখিল করেননি।
যশোর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতীক পেয়েছেন শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। তার প্রতীক ‘কলস’। অপরদিকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা জানান যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম; কিন্তু প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, তিনি ওই সংক্রান্তে কোনো কাগজ জমা দেননি। সেই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি পেয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীক।
এ ঘটনায় জহুরুল ইসলাম প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।
এর মধ্যে যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল পেয়েছেন লাঙ্গল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান লিটনের ধানের শীষ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. বকতিয়ার রহমান পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে লড়ছেন ৮ জন। তারা হলেন- বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা-ধানের শীষ, জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ- দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইদ্রিস আলী- হাতপাখা, বাসদের মো. ইমরান খান- মই, বিএনএফের মো. শামসুল হক- টেলিভিশন এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ- ঈগল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. জহুরুল ইসলাম -ঘোড়া এবং মো. মেহেদী হাসান ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন।
যশোর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থী ৬ জন। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’। অন্যরা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ‘হাতপাখা’, জামায়াতের মো. আব্দুল কাদের ‘দাঁড়িপাল্লা’, জাতীয় পার্টির মো. খবির গাজী ‘লাঙ্গল’, জাগপার মো. নিজামুদ্দিন অমিত ‘চশমা’ এবং সিপিবির মো. রাশেদ খান ‘কাস্তে’।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ ‘মোটর সাইকেল’, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন ‘হাতপাখা’, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি ‘ধানের শীষ’, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী ‘দেওয়াল ঘড়ি’, জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম রসুল ‘দাঁড়িপাল্লা’, জাতীয় পার্টির মো. জহুরুল হক ‘লাঙ্গল’ এবং বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মণ্ডল ‘রকেট’ প্রতীক।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে লড়ছেন ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির এমএ হালিম ‘লাঙ্গল’, জামায়াতের গাজী এনামুল হক ‘দাঁড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবেদীন ‘হাতপাখা’, বিএনপির রশীদ আহমাদ ‘ধানের শীষ’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ‘কলস’ প্রতীক।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রতীক পেয়েছেন ৫ জন। জাতীয় পার্টির জিএম হাসান ‘লাঙ্গল’, বিএনপির মো. আবুল হোসেন আজাদ ‘ধানের শীষ’, এবি পার্টির মো. মাহমুদ হাসান ‘ঈগল’, জামায়াতের মো. মোক্তার আলী ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুক হক সাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছেন। বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে, এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ নিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তুলেছেন প্রার্থীরা।
সিপিবি যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণায় স্পষ্ট নিষেধ থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পোস্টার এখনো দেখা যাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছে বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন। একটি বিশেষ দলের সমর্থকরা জুমার নামাজে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। আমি এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
যশোর ২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বাসদের প্রার্থী ইমরান খান বলেন, রাতের ভোট, ডামি ভোট এবং ভোট কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে চাই। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত আমরা হতে পারিনি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও তাদের কাছে থাকা অস্ত্র ও অবৈধ টাকা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। প্রশাসনের এ বিষয়ে আরও বেশি নজর দেয়া উচিত। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার আগে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের বেশি নজর দিতে হবে।
প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে যশোরে এখন পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হলো। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে প্রচার কাজ পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
তিনি বলেন, যশোরের ছয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে যশোরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জাহাঙ্গীর আলম রাকিব।
