শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপের চুনাপাথরের গুহায় প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন কিছু হাতের ছাপের সন্ধান পেয়েছেন যা প্রায় ৬৭ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) গবেষকরা জানিয়েছেন, এটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্র হিসেবে স্বীকৃত। ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গুহার দেয়ালে হাত রেখে তার ওপর রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট ফুঁ দিয়ে এই নকশাগুলো তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে দেয়ালের গায়ে হাতের একটি স্পষ্ট বহিরেখা ফুটে উঠেছে

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কারটি পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে মানব সভ্যতার শৈল্পিক ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জাকার্তা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সির (বিআরআইএন) প্রত্নতাত্ত্বিক আধহি অগাস ওক্তাভিয়ানা ২০১৫ সাল থেকে সুলাওয়েসি প্রদেশের মুনা দ্বীপ অঞ্চলে এই ধরনের হাতের ছাপ বা হ্যান্ড স্টেনসিল খুঁজছিলেন। তিনি গুহার ভেতরে অপেক্ষাকৃত নতুন কিছু চিত্রের নিচে—যেখানে ঘোড়ায় চড়া একজন মানুষ এবং একটি মুরগির ছবি ছিল—এই প্রাচীন হাতের ছাপগুলো খুঁজে পান। 

প্রাথমিকভাবে এই অস্পষ্ট ছাপগুলো যে মানুষের হাতের আঙুল, তা সহ-গবেষকদের কাছে প্রমাণ করা কঠিন ছিল। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর তিনি সেখানে মানুষের আঙুলের মতো কিছু স্পষ্ট অংশ খুঁজে পান, যেখানে আঙুলের ডগাগুলো কিছুটা তীক্ষ্ণ বা সূক্ষ্ম করা ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ম্যাক্সিম অ্যাবার্ট, যিনি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি জানান যে এই হাতের ছাপগুলো সুলাওয়েসির একটি স্বতন্ত্র শৈলীকে প্রতিনিধিত্ব করে। তার মতে, প্রাচীন শিল্পীরা আঙুলের ডগাগুলোকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন যাতে সেগুলো দেখতে সূক্ষ্ম মনে হয়।

গবেষণার সহ-লেখক অ্যাডাম ব্রাম সন্দেহ পোষণ করেছেন, প্রাচীন মানুষেরা হয়তো মানুষের হাতের ছবিটিকে অন্য কিছুতে, যেমন পশুর নখরে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি মনে করেন, এর পেছনে গভীর কোনো সাংস্কৃতিক বা প্রতীকী অর্থ ছিল যা সম্ভবত পশুপাখির সঙ্গে প্রাচীন মানুষের জটিল সম্পর্কের প্রতিফলন।

গবেষকরা এই চিত্রগুলোর বয়স নির্ধারণ করতে ‘ইউরেনিয়াম সিরিজ ডেটিং’ নামক একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। তারা গুহার দেয়ালে পিগমেন্টের ওপর জমে থাকা ক্যালসাইটের স্তর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং লেজারের মাধ্যমে ইউরেনিয়ামের ক্ষয়ের হার বিশ্লেষণ করেন। 

এই পদ্ধতিতে দেখা গেছে যে মুনা দ্বীপের এই গুহাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বারবার শিল্পকর্মের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি চিত্রের ওপর প্রায় ৩৫ হাজার বছর পর নতুন করে ছবি আঁকা হয়েছে। এই নতুন আবিষ্কারটি ২০২৪ সালে একই দলের খুঁজে পাওয়া সুলাওয়েসির পূর্ববর্তী গুহাচিত্রের চেয়েও ১৫ হাজার বছরের বেশি পুরোনো।

এই আবিষ্কারটি সুলাওয়েসি হয়ে আদিম মানুষের অভিবাসনের তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী জোরালো করেছে। গবেষক আধহি অগাস ওক্তাভিয়ানার মতে, এই চিত্রগুলো প্রমাণ করে যে আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল দক্ষ নাবিকই ছিলেন না, বরং তারা অত্যন্ত নিপুণ শিল্পীও ছিলেন। প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে এই আবিষ্কারের এক গভীর যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন গবেষকরা। 

উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুরুজুগাতেও প্রায় ৫০ হাজার বছরের পুরোনো প্রস্তর খোদাই বা পেট্রোগ্লিফ পাওয়া গেছে যা সম্প্রতি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় স্থান পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার এই নতুন সন্ধানটি আদিম মানুষের শৈল্পিক বিকাশের ইতিহাসকে আরও প্রাচীন প্রমাণিত করল।