করাচি গিয়েছিলেন নায়ক ইলিয়াস জাভেদ। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। মাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে ফিরে এসেছেন। একগ্লাস পানিও খাননি। যদি মায়ায় জড়িয়ে যান! ঢাকায় তার হাতে তখন অনেক সিনেমা। প্রযোজকেরা তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। সহোদরদের আকুতি-মিতনিতেও তিনি থাকেননি পাকিস্তানে। অথচ সেই অভিনেতাকে জাতীয় পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়নি। আজ মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী আক্ষেপ করে বলছিলেন, আমার স্বামীর আর পুরস্কার-টুরস্কার দরকার হবে না!
একবার মঞ্চনাটক দেখতে গিয়েছিলেন জাভেদ। ব্যস্ত নায়ক। অনুষ্ঠান শুরু করে দিয়ে চলে যাবেন। কিন্তু এক পরিচালকের আন্তরিক আহ্বানে বসে গেলেন। তাকে বলা হলো, ‘নতুন একটা মেয়ে এসেছে, দেখো কেমন পারফর্ম করে।’ তিনি বসলেন। নাটকের শুরুতেই নাচ। মঞ্চে এলেন ডলি চৌধুরী। জাভেদ মুগ্ধ হয়ে পুরো নাটক দেখলেন। পরে বললেন, এই রকম মেয়ে আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দরকার। ওকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দাও। ডলির সঙ্গে পরিচয় হলো সেখানে। বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বর নিলেন। ঠিক পনেরো দিন পর প্রস্তাব পাঠালেন। ইবনে মিজান! এত বড় ডিরেক্টর। ‘রাজিয়া সুলতানা’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্য’, দুইটা ছবিতে নায়িকা হিসেবে ডলিকে চান জাভেদ। সেই থেকে হলো শুরু। পরে তো জাভেদের জীবনের নায়িকা হয়ে গেলেন ডলি।
জাভেদ দীর্ঘদিন অসুস্থ। ছায়ার মতো তার পাশে ছিলেন স্ত্রী। স্বামীকে এভাবে আগলে রাখতে দেখা যায় সিনেমায়। বাস্তবজীবনে আদৌ কেউ এ রকম করেন আজকাল? ডলি চৌধুরী করেছেন। নিজের জীবনটা তিনি উৎসর্গ করেছেন স্বামীর জন্য। স্ত্রীর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছিলেন অভিনেতা জাভেদ। বার বার আল্লাহকে বলতেন, ‘আল্লাহ তুমি আমাকে নিয়ে যাও, আমাকে নিয়ে যাও খোদা। আমার স্ত্রীকে আর কষ্ট দিও না।’
