শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি সবচেয়ে বড় ৫ পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি সবচেয়ে বড় ৫ পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি সবচেয়ে বড় ৫ পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এক বছরের মধ্যেই অভিবাসন নীতি বা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এসব পরিবর্তনের ফলে শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধ অভিবাসনও আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এসে তিনি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনছেন। নিচে নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—

 

যাচাই-বাছাই আরও কঠিন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এখন আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করছে। নাগরিকত্ব পরীক্ষাও কঠিন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভালো নৈতিক চরিত্র, সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ইতিবাচক অবদানের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে।

জালিয়াতি ধরতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

 

 

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আটকে যাচ্ছে আবেদন 

ট্রাম্প প্রশাসন গত এক বছরে কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যেসব দেশের ওপর নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদন কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এসব দেশের নাগরিকরাও এখন ভিসা নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে ধারণা।

 

 

ওয়ার্ক পারমিট তথা কাজের ভিসার মেয়াদ কমছে

বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের অনুমতির মেয়াদ কমিয়ে ৫ বছর থেকে ১৮ মাস করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এতে জালিয়াতি কমবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা সহজ হবে। তবে এতে বৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের অনিশ্চয়তা বাড়বে।

 

 

সরকারি সহায়তা নিলে নেতিবাচক প্রভাব

নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা নিতে পারেন কি না, তা আবেদন মূল্যায়নে নেতিবাচক হিসেবে ধরা হবে। যদিও অবৈধ অভিবাসীরা সরাসরি এসব সুবিধা পান না, তবে অনেক বৈধ অভিবাসী বা মিশ্র পরিবারের সদস্যরা এর আওতায় পড়বেন।

 

 

মানবিক কর্মসূচি বন্ধ, লাখো অভিবাসীর ‘লিগ্যাল স্ট্যাটাল’ বাতিল

ট্রাম্প প্রশাসন ১১টি দেশের নাগরিকদের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার প্রায় ৭৬ হাজার মানুষসহ মোট প্রায় ১০ লাখ মানুষ তাদের ‘লিগ্যাল স্ট্যাটাস’ তথা আইনি সুবিধা হারিয়েছেন।

এছাড়া কিউবান, হাইতিয়ান, নিকারাগুয়ান ও ভেনেজুয়েলানদের জন্য থাকা বিশেষ প্যারোল কর্মসূচিও বন্ধ করা হয়েছে। ফলে এসব মানুষ এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

হোয়াইট হাউস বলছে, এসব সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমবাজারে বৈধ কর্মী নিয়োগের সুযোগ রাখা হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ও বৈধভাবে বসবাস করা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।