আজ ২৩ জানুয়ারি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা অমল বোসের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ২০১২ সালের এই দিনে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।অমল বোসের পুরো নাম অমলেন্দু বিশ্বাস। ষাটের দশকে মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি নিয়মিত অভিনয় করেছেন মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে। তবে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ‘নানা’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পান তুমুল জনপ্রিয়তা এবং হয়ে ওঠেন সব বয়সী দর্শকের প্রিয় ‘নানা’।ইত্যাদির ‘নানা-নাতি’ কৌতুক নাটিকার মাধ্যমে তিনি সমাজের দৈনন্দিন নানা অসঙ্গতি সহজ-সরল ভাষা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। শুধু সংলাপ বা অঙ্গভঙ্গিতে নয়, চরিত্রের গভীরে ঢুকে জীবন্ত করে তুলতেন প্রতিটি অভিনয়।
পেশাগত জীবনের মতো ব্যক্তিজীবনেও তিনি ছিলেন সৎ, নিবেদিতপ্রাণ ও স্নেহপ্রবণ— সবখানেই ছিলেন সকলের প্রিয়।পাড়ার মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়ে বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয় ‘রাজা সন্ন্যাসী’ চলচ্চিত্র দিয়ে। এরপর ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ‘কেন এমন হয়’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘আজকের প্রতিবাদ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন অমল বোস। জীবদ্দশায় তিনি শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘অবিচার’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘আমি সেই মেয়ে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘মন মানে না’।১৯৪৩ সালে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী অভিনেতা।
চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশন— সব মাধ্যমেই তিনি ছিলেন জনপ্রিয় ও ভালোবাসার মানুষ। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে ভক্ত-অনুরাগীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই প্রিয় অভিনেতাকে।
