শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

আফগান যুদ্ধে ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের বিরূপ মন্তব্য, যুক্তরাজ্যের তীব্র ক্ষোভ

আফগান যুদ্ধে ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের বিরূপ মন্তব্য, যুক্তরাজ্যের তীব্র ক্ষোভ

আফগান যুদ্ধে ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের বিরূপ মন্তব্য, যুক্তরাজ্যের তীব্র ক্ষোভ

আফগান যুদ্ধে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর সেনারা সম্মুখসমরে না থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিল—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এমন মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও ভয়ানক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আফগানিস্তানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সেনা পাঠালেও তারা সম্মুখসমরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। তাঁর ভাষায়, ‘তারা বলবে যে তারা আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়েছিল। পাঠিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তারা সম্মুখসমর থেকে কিছুটা দূরে নিরাপদ অবস্থানে থাকত।’ একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিপদে পড়লে ন্যাটোর মিত্ররা হয়তো এগিয়ে আসবে না।


ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর ৪৫৭ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বহু সেনা স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই মন্তব্য শুধু অপমানজনক নয়, এটি ভয়ানকও। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য এটি গভীর কষ্টের। আমি যদি এমন ভুল তথ্য দিতাম, অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।’

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর জন্য অন্য সব দেশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও বেশি করেছে। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘একদম সঠিক কথা বলেছেন’।

যুক্তরাজ্যের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত আফগানিস্তানে এক লাখ ৫০ হাজারের বেশি ব্রিটিশ সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। নিহত ৪৫৭ জনের মধ্যে ৪০৫ জনই সরাসরি শত্রুপক্ষের হামলায় প্রাণ হারান। একই সময়ে দীর্ঘ এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

 

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারাও। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁরা ছিলেন বীর এবং জাতির সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস, যিনি আফগানিস্তানে পাঁচটি মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন।

বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেইডনকও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন, এ ধরনের বক্তব্য ন্যাটো জোটকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে দলের নেতা ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র নাইজেল ফারাজও এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুল বলছেন। ২০ বছর ধরে ব্রিটিশ সেনারা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে।’

 

আফগান যুদ্ধে সরাসরি সম্মুখসমরে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। বন্ধু বানিয়েছি, আবার অনেক বন্ধুকে হারিয়েছি। হাজার হাজার মানুষের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। মা–বাবারা তাঁদের সন্তানদের দাফন করেছেন, অসংখ্য শিশু এতিম হয়েছে। সেই আত্মত্যাগ নিয়ে সত্য ও সম্মানের সঙ্গে কথা বলা উচিত।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্কেই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে ন্যাটো জোট ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করেছে।