সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কানাডায় ৪৫ বছরের ইতিহাসে নতুন বাড়ি বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে

কানাডায় ৪৫ বছরের ইতিহাসে নতুন বাড়ি বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে

কানাডায় ৪৫ বছরের ইতিহাসে নতুন বাড়ি বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে


কানাডায় ৪৫ বছরের ইতিহাসে নতুন বাড়ি বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে

কানাডায় গত ৪৫ বছরের ইতিহাসে নতুন বাড়ি বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ) অঞ্চলে নতুন বাড়ি বিক্রি রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় আবাসন খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে ১০ হাজারেরও বেশি নির্মাণকর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিল্ড) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জিটিএ জুড়ে মাত্র ২৪০টি নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে। যা গত ১০ বছরের গড় বিক্রির তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১০০ ইউনিট কম।

ডিসেম্বরের এই হিসাবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জিটিএতে নতুন বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে খারাপ বছর। বিল্ডের বাজার বিশ্লেষণ সহযোগী অল্টাস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড সংরক্ষণের ৪৫ বছরের ইতিহাসে ২০২৫ সাল ছিল নতুন বাড়ি বিক্রির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল বছর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে জিটিএ অঞ্চলে মোট নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৩০০টি, যা গত ১০ বছরের গড় ২৮ হাজার ২৮৬টির তুলনায় ৮১ শতাংশ কম।

এর আগের বছর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন বাড়ি বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেই রেকর্ডও ভেঙে যায়। গত মাসে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম ছিল।

বাড়ি বিক্রির এই ধারাবাহিক পতনের পেছনে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ আবাসনমূল্য এবং সুদের হার কমানোর চক্র শেষ হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেছেন অল্টাস গ্রুপের গবেষণা ব্যবস্থাপক এডওয়ার্ড জেগ। 

তিনি বলেন, ‘এই কারণগুলো অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালেও ক্রেতাদের অনীহা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিক্রি হওয়া নতুন বাড়ির মধ্যে ৩ হাজার ২৪৭টি ছিল একক পরিবারভিত্তিক বাড়ি, যা ১০ বছরের গড়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ কম। অন্যদিকে, কন্ডোমিনিয়াম বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৭টি—যা গড়ের তুলনায় ৮৯ শতাংশ কম।

এক লাখ চাকরি ঝুঁকিতে

বিল্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) জাস্টিন শেরউড বলেন, নতুন বাড়ি বিক্রি কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই আবাসন নির্মাণও হ্রাস পায়। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রায় এক লাখ নির্মাণসংক্রান্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর মধ্যে অর্ধেক সরাসরি নির্মাণকাজে যুক্ত এবং বাকি অর্ধেক নির্মাণ খাতকে সহায়তাকারী বিভিন্ন সেবা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাড়ি বিক্রি বাড়াতে প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য ঘোষিত করছাড় সবার জন্য প্রযোজ্য করা প্রয়োজন।

‘বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া জরুরি,’ মন্তব্য করেন তিনি।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ফেডারেল সরকারের সহযোগিতা পেলে আবাসন বাজারে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরতে পারে।

তবে অন্টারিও লিবারেল পার্টির আবাসনবিষয়ক সমালোচক আদিল শামজি বলেন, আবাসন সরবরাহ বাড়াতে ফোর্ড সরকারের সক্ষমতা নিয়ে তার আস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই প্রদেশের আবাসন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, অন্টারিও সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী পিটার বেথলেনফালভি সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য এখন ‘নরম’ বা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং করপোরেশনের (সিএমএইচসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্টারিওতে নতুন আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার ইউনিটে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম।