ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আইসিসির দেওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকেই সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও বাণিজ্যিক স্বার্থে।
ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে বিরাট ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, পাকিস্তানের উসকানিতেই বাংলাদেশ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। মদন লালের মতে, আইসিসি এখানে সঠিক অবস্থান নিয়েছে এবং পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে।
মদন লাল বলেন, আইসিসি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভুল বুঝিয়েছে। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ডের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বড় ধরনের ভুল করল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান বিসিবিকে উসকে দিয়েছে। তার দাবি, পাকিস্তান নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়ে বাংলাদেশকে বাধ্য করেছে, যাতে তারা সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবি তোলে।
ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, এটি বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। এতে ভারতের কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু বাণিজ্যিক দিক থেকে বাংলাদেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। পাকিস্তান মূলত ভারতকে ছোট করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশকে প্ররোচিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ। বিসিবি দাবি করে, ভারতে খেললে নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে এবং সে কারণে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এমনকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভেন্যু অদলবদলের প্রস্তাবও দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তবে আইসিসির বোর্ড অফ ডিরেক্টরস বাংলাদেশের এই দাবি নাকচ করে দেয়। এরপর বিসিবি আইসিসির ডিসপিউট রেজিলিউশন কমিটির দ্বারস্থ হলেও সেখানে তারা ব্যর্থ হয়। সবশেষে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোয় টুর্নামেন্টে নতুন করে সুযোগ তৈরি হয়েছে স্কটল্যান্ডের জন্য। এতে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দল ও গ্রুপ বিন্যাসে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
