শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করলো ওয়াশিংটন

আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করলো ওয়াশিংটন

আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করলো ওয়াশিংটন


আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করলো ওয়াশিংটন

ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকিকে দেশটির পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট সমর্থন দেওয়ার পর সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীরে সঙ্গে ফোনালাপে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

কারণ নূরী আল-মালিকিকে ইরানপন্থী হিসেবে দাবি করে আসছে মার্কিন প্রশাসন। এর আগে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয় মালিকিকে। তবে সম্প্রীতি সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট সমর্থন দেওয়ার পর মালিকির আবারও প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে টেলিফোনে বলেছেন মার্কো রুবিও। তিনি ফোনালাপে পরবর্তী সরকার ইরাককে ‘মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তি’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সরকার সফলভাবে ইরাকের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারবে না। সেই সােথে ইরাককে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে রাখতে পারবে না বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে পারস্পরিক উপকারী অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে পারবে না। 

তবে বিশ্লষকদের মতে, ইরাকে একটি ইরানপন্থী সরকার তেহরানের ধর্মীয় রাষ্ট্রের জন্য একটি বিরল আশীর্বাদ হবে। কারণ দেশটিতে সম্প্রীতি আন্দোলনের কারণে বৈশ্বিক চাপে রয়েছে। তেহরানে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হাজার হাজার ইরানিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি ইরাকি রাজনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী মালিকির নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারগুলোর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।’

একটি চিঠিতে মার্কিন প্রতিনিধিরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন যদিও ইরাকি সিদ্ধান্ত, ‘মার্কিন স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে পরবর্তী সরকার সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেবে’।

২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকের তেল রপ্তানির রাজস্ব মূলত নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা থাকায় ইরাকের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রভাব রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে প্রধান হলো, ইরাক যেন ইরান সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির পুনরুত্থান রোধ করে। ২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণকারী সুদানি এই গোষ্ঠীগুলির সহিংসতা রোধে তার সূক্ষ্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে মার্কিন আস্থা অর্জন করেছেন।

মালিকি ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ইরাকে আল-কায়েদা এবং অন্যান্য সুন্নি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মালিকির উপর বিরক্ত হয়ে ওঠে, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে তিনি একটি অত্যধিক সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা চালিত করেছেন যা ইসলামিক স্টেট চরমপন্থী আন্দোলনের জন্ম দিতে সাহায্য করেছে।

ইরাকের সংসদ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য বৈঠক করবে। যিনি মূলত আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করেন তবে একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।