যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনা চলছে। তাই যেকোনো সম্ভাব্য হামলার মোকাবেলা ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তেহরান। শত্রুদের কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি ইরানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সহিংস বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। সোমবার তেহরানে এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বর্তমান পরিস্থিতিকে হাইব্রিড যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।
বাঘাই গত বছরের জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি উসকানি রয়েছে। বাঘাইর দাবি, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ভিত্তিহীন দাবি ও হুমকি ধামকি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরি পাঠানোর খবরে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ভালোভাবেই জানে যে এই অস্থিরতা সংক্রামক এবং এটি কেবল ইরানের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইসমাইল বাঘাই প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক হামলার সম্ভাব্য পরিণাম নিয়ে অঞ্চলের সব দেশেরই উদ্বেগ রয়েছে। তাই এই হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর একটি স্পষ্ট অবস্থান নেয়া উচিত।
বাঘাই উল্লেখ করেন, ইরান তার নিজস্ব সক্ষমতা এবং অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে সক্ষম। তার মতে, ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক, সুনির্দিষ্ট এবং আগ্রাসনকারীদের জন্য চরম অনুশোচনার কারণ।
এদিকে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, একটি শক্তিশালী নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কিছু গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে।
