ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাতের আলুর আবাদে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আজ কসবা উপজেলার কৃষক জনাব মোঃ ফারুকের প্রদর্শনী জমি থেকে নতুন জাতের বিএডিসি আলু ১ (সানসাইন) সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রচলিত জাতের তুলনায় এই আলুর ফলন এবং মান দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব আয়শা আক্তার জানান যে, বিএডিসি আলু-১ (সানসাইন) জাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। মাত্র ৬৫ দিনের মধ্যেই পরিপক্ক হয়ে বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়। হেক্টর প্রতি গড়ে ৩৫-৪০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। আলুর গায়ের রং উজ্জ্বল হলুদাভ এবং আকার বেশ সুষম, ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় এটি ৪-৫ মাস অনায়াসেই সংরক্ষণ করা যায়। আলুর আগাম এ জাতটি কসবা উপজেলার জন্য খুব উপযোগী একটি জাত।
কৃষক মোঃ ফারুক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও উপসহকারী কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি এই নতুন জাতের আবাদ করেছিলেন। আজ আলু সংগ্রহের পর দেখা গেছে, প্রতিটি আলুর আকার বেশ বড়, ত্বক মসৃণ এবং সংখ্যায়ও অনেক বেশি। আগে তিনি ভৈরবী ও লাল পাকরি জাতের আলু চাষ করতেন, যার ফলন কম হতো।এ বছর তিনি সানসাইন জাতের আলু করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন ও তিনি আশা করছেন এ বছর বেশি লাভবান হতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসি আলু-১ (সানশাইন) একটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং রোগবালাই সহনশীল জাত। রপ্তানিযোগ্য এই জাতটি বাজারে বেশ চাহিদা সম্পন্ন। কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে এই আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে পারেন। সফল এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আগামীতে কসবা উপজেলায় সানশাইনসহ নতুন নতুন জাতের আলুর চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
