বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বের ১১৯টি নগরীর মধ্যে ২১১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ঢাকা। বায়ুর এ মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাজধানীর অন্তত পাঁচটি এলাকায় আজ বায়ুদূষণ পরিস্থিতি খুব খারাপ। ঢাকার পাশের শিল্পনগরী গাজীপুরে দূষণের মাত্রা আরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসের প্রায় পুরোটা সময় ধরেই বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ নগরীগুলোর তালিকায় ছিল ঢাকা। চলতি মাসেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এই তথ্য তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে এবং তাৎক্ষণিক সূচকের মাধ্যমে দূষণের মাত্রা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে। আজ ঢাকার বায়ুদূষণের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের জন্য একাধিক সতর্কতামূলক পরামর্শও দিয়েছে আইকিউএয়ার।
বায়ুদূষণের সূচক ২০০-এর বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ বা তার বেশি হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আজ ঢাকার গড় স্কোর ছিল ২১১। তবে গাজীপুরে বায়ুর মান আরও ভয়াবহ—স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৯০-এর কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা রাজধানীর চেয়েও বেশি হচ্ছে। অথচ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক এবং বাস্তব ফল খুবই সীমিত।
বায়ুদূষণে আজ বিশ্বের নগরীগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২২০।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের স্থানীয় উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যানবাহন, কলকারখানা, নির্মাণকাজের ধুলাবালু, বর্জ্য ও বিভিন্ন দ্রব্য পোড়ানো এবং ইটভাটার দূষণই ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। উপমহাদেশীয় দূষিত বায়ুপ্রবাহের তুলনায় স্থানীয় উৎসগুলোর প্রভাবই বেশি।
ঢাকার যেসব এলাকায় বায়ুর মান খুব খারাপ
আজ সকালে ঢাকার পাঁচটি স্থানে বায়ুর মান ছিল খুব অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে। এলাকাগুলো হলো—
নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড: ২৫৩
হেমায়েতপুর: ২৩৫
মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং: ২২৯
দক্ষিণ পল্লবী: ২১৮
ধানমন্ডি: ২০৩
দেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প ও উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুরক্ষায় নগরবাসীর করণীয়
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা জায়গায় ব্যায়াম না করা এবং ঘরের জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
