স্মার্ট শিক্ষা ব্যাবস্থায় দেশের প্রথম এআই ভিত্তিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’র পাইলট প্রকল্প কুষ্টিয়ায়
শিক্ষার্থীর পুরো শিক্ষা জীবনের ডেটাবেজ সংরক্ষিত থাকবে
কোনো শিক্ষার্থী পরপর ৩দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের মোবাইলে নোটিফিকেশন চলে যাবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ও একাডেমিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে কোন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।
এমন তথ্য আগে থেকে জানিয়ে দিবে ‘শিক্ষাব্রীজ’ নামের একটি সফটওয়্যার। শিক্ষাব্রীজ এর সবচেয়ে চমকপ্রদ ফিচার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। ফলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা সময় মতো ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পরীক্ষার ফলাফল তৈরি, টেবুলেশন শিট জেনারেট এবং অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি এখানে অটোমেটেড। এছাড়া ক্লাসের সিলেবাস আপলোড করতে রয়েছে আলাদা মডিউল।
শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি আদায়ের জটিল হিসাব করা যাবে এক ক্লিকেই। কোন শিক্ষার্থীর কত টাকা বকেয়া আছে তার রিপোর্ট মুহুত্বেই পাওয়া যাবে। স্কুল বন্ধের ঘোষণা বা জরুরি নোটিশসহ সব তথ্য ‘পুশ নোটিফিকেশন’-এর মাধ্যমে পৌঁছে যাবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মোবাইলে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে সফটওয়্যার ‘শিক্ষাব্রীজ’ এর পরীক্ষামুলক কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে জেলার সব বিদ্যালয়কে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষায় আধুনিকায়ন ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু করেতে দেশের প্রথম পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে কুষ্টিয়ায়। সদর উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এবং অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে অত্যাধুনিক স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ‘শিক্ষাব্রীজ’।
এতে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে সম্পৃর্ণ অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসতে সফটওয়্যারটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সফটওয়্যারটির পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করেছে উপজেলা পরিষদ এবং আম্বিয়াজ। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১০টি স্কুলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল স্কুলকে এই সফটওয়্যারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, উদ্যোগটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি রোল মডেল হতে পারে। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও গতি আসবে। সকলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে। দুর্বল ছাত্রদের বিষয়ে আগে থেকেই জানা যাবে। এতে করে গুরুত্ব দিবে পারবে শিক্ষকরা।
কুষ্টিয়া শহরের একটিসহ গ্রামের ১০টি স্কুলকে যুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, ‘শিক্ষাব্রীজ’ সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা আইডি থাকবে। এর মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর পুরো শিক্ষা জীবনের ডেটাবেজ সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষার্থী এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে উত্তীর্ণ হলেও আইডি অপরিবর্তিত থাকবে। দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সফটওয়্যারটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই অপারেট করা যাবে। ফলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকলেও শিক্ষক বা কর্মচারী সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
এছাড়া সফটওয়্যারটিতে শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে বা দেরিতে আসলে তাৎক্ষণিক ‘এটেন্ডেন্স এলার্ট’ জেনারেট হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সফটওয়্যারটি অত্যন্ত কার্যকর। কোনো শিক্ষার্থী পরপর ৩দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের মোবাইলে নোটিফিকেশন চলে যাবে।
‘শিক্ষাব্রীজ’-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ ফিচার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ও একাডেমিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে কোন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। ফলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা সময় মতো ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পরীক্ষার ফলাফল তৈরি, টেবুলেশন শিট জেনারেট এবং অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি এখানে অটোমেটেড। এছাড়া ক্লাসের সিলেবাস আপলোড করতে রয়েছে আলাদা মডিউল। শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি আদায়ের জটিল হিসাব করা যাবে এক ক্লিকেই। শিক্ষার্থীদের বকেয়ার রিপোর্ট মুহুত্বেই পাওয়া যাবে। স্কুল বন্ধের ঘোষণা বা জরুরি নোটিশসহ সব তথ্য ‘পুশ নোটিফিকেশন’-এর মাধ্যমে পৌঁছে যাবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মোবাইলে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য লার্নিং টুলস এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম, জাতীয় মেধা অন্বেশন ও ট্র্যাকিং, ই-লাইব্রেরী ও কন্টেন্ট শেয়ারিং, ন্যাশনাল এডুকেশন হিট্ম্যাপ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং শেল্টার মুড, স্মার্ট টিচার ইভ্যালুয়েশন এবং ট্রেনিং, সাইকোমেট্রিকস ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লিড ডেভলোপার মোহাম্মদ জুনায়েদ জানান, শিক্ষাব্রীজ সফটওয়্যারটির ধারাবাহিক মানোন্নয়নের জন্য আম্বিয়াজ টিম সবসময়ই সচেষ্ট থাকবে।
নবম শ্রণির শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম জানান, সফটওয়্যারটি অল্প দিন চালু হয়েছে। এসম্পর্কে এখনো সবাই অবগত হতে পারেনি। সফটওয়্যারটি পুরোপুরি চালু হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা হাতের মুঠোয় চলে আসবে। তবে এসম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধারণা দিতে হবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।
কুষ্টিয়া জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইটি শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, “বর্তমান যুগে শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সংযুক্তি এক অনিবার্য বাস্তবতা। শিক্ষায় আধুনিকায়নে আমাদের স্কুলে চালু হয়েছে সফটওয়্যারভিত্তিক স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা। সফটওয়্যারটি প্রথাগত কাগজে বা ম্যানুয়াল পদ্ধতির জটিলতা দূর করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক এবং প্রযুক্তি বান্ধব করেছে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং পার্টনার আক্তারুজ্জামান অভিক জানান, আগামীতে তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির লিড ডেভলোপার মোহাম্মদ জুনায়েদ জানান, শিক্ষাব্রীজ সফটওয়্যারটির ধারাবাহিক মানোন্নয়নের জন্য আম্বিয়াজ টিম সবসময়ই সচেষ্ট থাকবে।
