ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহুর্তে এসে প্রার্থীরা বিরামহীনভাবে নাওয়া খাওয়া ভূলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থক নিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। যতই ভোটের দিন এগিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ভোটের লড়াই সেই সাথে প্রার্থীদের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ । এই আসনে মূলত ৫ জন প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শাহা জাহান চৌধুরী এবং কক্সবাজার জেলা আমীর জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীর প্রচারণা রয়েছে চোখে পড়ার মতো। এক সময় বিএনপি অনায়াসে আসনটি জিতে যাওয়ার সম্ভবনা থাকলে ও জামাতে কৌশলী সিদ্ধান্তে বদলে যাচ্ছে মাঠের হাওয়া। সাবেক বিএনপি নেতা পালং খালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও বিএনপি প্রার্থীর ভাই জামায়াত নেতা এডঃ শাহজালাল চৌধুরী প্রচারনায় জামাযাতের পালে বয়ছে আলগা হাওয়া।
যা দুদলের মধ্যে ইংগিত লড়াই হবে হাড্ডা হাড্ডি। এবার ভোটের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। কে হবেন এ আসনের প্রতিনিধি, দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় অনেক ভোটার বলছেন, এবার প্রতীক নয়, প্রার্থী দেখেই ভোট দিব। আবার কেউ কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীর অতীত কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতাকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। অন্য দলগুলোর পক্ষে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখনো অনেক ভোটার প্রকাশ্যে তাদের পছন্দের কথা বলছেন না। ফলে ভোটের হিসাব আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে। এ আসনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বললে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় এই আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালের পর থেকে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। এতে বিএনপির ভোট ব্যাংকে কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে দলটি মাঠ ছাড়েনি। হাসিনা সরকারের ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি ও রাতের ভোটের কারণে বিএনপি সুবিধা করতে পারেনি। তবুও আশা ছাড়েনি তারা। এবার তাদের প্রত্যাশা ছিল ভিন্ন। কিন্তু সেই প্রত্যাশার গুড়ে বালি ঢেলেছে জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে জামায়াত আগে বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল।
এবার তারা এককভাবে নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে তারা আসনটিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ফলে বিএনপি ও তাদের হারানো আসন ধরে রাখতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। কে কতটা জনপ্রিয়, তা স্পষ্ট হবে আগামী ১২ তারিখের ভোটে।
উখিয়ার বিভিন্ন পাড়া এলাকায় চায়ের দোকান,বিভিন্ন চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা হয় । তারা বলেন, এবার বিএনপির প্রার্থী এমপি হওয়া খুবই কঠিন হবে। কারণ জামায়াতের সঙ্গে কঠিন লড়াই করেই জয়ী হতে হবে। কারণ আমরা দেখছি বিএনপির মধ্যে অনেক নেতাকর্মী কিছুটা দুরে দুরে অবস্থান করছেন এবং দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়েছেন,বাজার পুতপাত দখল, অরিরিক্ত বাজার হাসিঁল/টেক্স গাড়ীতে মালামাল নামলে টেক্স ইত্যাদির কারণে পন্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে যার কারণে মানুষ বিরক্ত। তাছাড়া এক সময় যারা বিএনপির ভোটার ছিল তারা এখন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে/গোপনে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । মানুষের রুপ চেনা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।
কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা হয় তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর তারা স্বাধীনভাবে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার কাঙ্খিত প্রাথীকে ভোট দেবো। অনেক দলের লোকজন আসছে। তবে প্রতীক নয় প্রার্থীর ৫ই আগস্ট পরবর্তী কার্যক্রম ও অতীত দেখে ভেবেচিন্তে ভোট দিতে চাই।
একজন অটোচালক বলেন, অনেক কিছু দেখেছি। এবার একটু ভিন্নভাবে ভাবছি। কিন্তু হ্যাঁ/না টা ভালোকরে বুঝতে ছি না এটাতে কি কারো ক্ষমতায় যাওয়া আসা নির্ভরকরে? হিসাব-নিকাশ করেই ভোট দেবো।
কারণ হিসেবে বলেন, কেউ কেউ ক্ষমতায় আসার আগেই দাপট দেখাচ্ছে। শান্তির লক্ষে শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভোট দিতে চাই। যার দ্বারা এলাকার উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে সব সময়। আরেকজন ভোটার বলেন, আমরা যাদের কারণে ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি, অনেক দলের নেতারা এখন তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। আমরা আর দেশকে পিছনের দিকে নিতে চাই না ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। যাকে ভোট দিলে নিরাপদে থাকা যাবে তাকে ভোট দিব।
বিএনপি প্রার্থী জনাব শাহজাহান চৌধুরী তার নির্বাচনী পথসভায় তার বিগত আমলের উন্নয়রে কথা তুলে ধরছেন ,বলেন আমি চাই এলাকার উন্নয়ন। দীর্ঘ বছর এই এলাকার জনগন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছে। তিনি জামায়াত কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্য বলেন আপনারা জামায়াত করেন সমস্যা নাই ভোট আমাকে দিবেন। তিনি আরো বলেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর আমি যখন ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছি, তখন তারা আমার আগের কাজের প্রশংসা করছেন।
জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন সময় এসেছে পরিবর্তনের। মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন চায়। আমি জনগণের দোয়ায় তাদের সেই প্রত্যাশার প্রতিনিধিত্ব করতে চাই এবং সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। তিনি তার নির্বাচনি প্রচারনায় বারবার প্রতিদন্ধী প্রার্থীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন ৫ ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে পুরোনো ট্যাগিং বুলিং মিথ্যা রাজনীতিকে জনগন লালকার্ড দেখাবে। ৮ তারিখ (আজ) কোর্টবাজার জনসভায় মানুষ অংশগ্রহন করে তাদের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ দেখাবে।
