দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুয়ালালামপুরে অবতরণের মধ্য দিয়ে ভারত–মালয়েশিয়া সম্পর্কের কূটনৈতিক পরিসরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমানটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এ সময় দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী দুই দেশের জাতীয় পতাকা নেড়ে তাকে স্বাগত জানায়। মালয়েশিয়ার বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে পরিবেশিত হয় ‘মাদানি’ ড্রাম পারফরম্যান্স ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, যা অনুষ্ঠানে যোগ করে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক আবহ।
রোববার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ভারত ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর এটিই নরেন্দ্র মোদির প্রথম মালয়েশিয়া সফর। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেবে।
সফরকালে দুর্নীতি প্রতিরোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, স্বাস্থ্য খাত, জাতীয় নিরাপত্তা, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, শ্রমবাজার সহযোগিতা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে রয়েছে সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৯ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস এই সম্পর্ককে সামাজিক ও মানবিক ভিত্তি দিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে আস্থা, সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের এক সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
