মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খামেনির মৃত্যুর পর আলোচনায় হাসান খোমেনি

খামেনির মৃত্যুর পর আলোচনায় হাসান খোমেনি

খামেনির মৃত্যুর পর আলোচনায় হাসান খোমেনি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন? সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের আলোচনায় সামনে এসেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি হাসান খোমেনি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেনি রুহুল্লাহ খোমেনির ১৫ নাতি-নাতনির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। ইরানের ধর্মীয় অভিজাত মহলে তাঁকে তুলনামূলক মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানি–র সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই নেতা ক্ষমতায় থাকাকালে পশ্চিমাদের সঙ্গে সংলাপ ও সম্পৃক্ততার নীতি অনুসরণ করেছিলেন।


দক্ষিণ তেহরানে দাদার সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে হাসান প্রতীকী গুরুত্ব বহন করেন। যদিও তিনি কখনো সরকারি পদে ছিলেন না, অনেকের মতে তিনি কট্টরপন্থী শিবিরের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার—বিশেষ করে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি–র বিপরীতে।

২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংস্কারপন্থী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ায় তিনি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সমালোচনা করেছিলেন। সে নির্বাচনে কট্টরপন্থী নেতা ইব্রাহিম রাইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে হাসান খোমেনি স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেন। তবে একই সঙ্গে খামেনিবিরোধী স্লোগান দেওয়া বিক্ষোভকারীদেরও সমালোচনা করেন, যা ইরানের বিদ্যমান শাসন কাঠামোর প্রতি তাঁর আনুগত্যের ইঙ্গিত দেয়।

রাজনৈতিকভাবে সংস্কারপন্থী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর ভেতরেই পরিবর্তন চান। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি রুহানি সরকারকে সমর্থন করেছিলেন। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

এক দশক আগে বিশেষজ্ঞ পরিষদে (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) প্রার্থী হতে চাইলেও গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করে। আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় যোগ্যতার ঘাটতির কথা বলা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল সংস্কারপন্থী চ্যালেঞ্জ ঠেকানোর পদক্ষেপ।

আরবি ও ইংরেজিতে সাবলীল হাসান খোমেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং পাশ্চাত্য দর্শনেও আগ্রহী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আয়াতুল্লাহ পরিবারের কন্যা সাইয়েদা ফাতিমাকে বিয়ে করেছেন; তাঁদের চার সন্তান রয়েছে।