রমজান মানেই সংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। এতে পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা মূলত কিছু সাধারণ ভুল খাবার ও অভ্যাসের কারণে ঘটে।
ভুল খাবার ও অভ্যাস
ভাজাপোড়া খাবার: বেগুনি, পেঁয়াজু বা আলুর চপ ইফতারের সময় প্রিয় হলেও খালি পেটে সরাসরি তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি করে। হজম সমস্যা, অ্যাসিডিটি ও গ্যাস বাড়ে, পাশাপাশি শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে ওজন বেড়ে যায়।
মিষ্টি পানীয়: শরবত, প্যাকেট জুস বা কোমল পানীয় ইফতারে গলা ভেজাতে স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে ক্লান্তি, ক্ষুধা ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির কারণও হতে পারে।
অতিরিক্ত খাওয়া: একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে পাকস্থলী হঠাৎ অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে। বদহজম, বমি ভাব ও অস্বস্তি দেখা দেয়। ধীরে ধীরে খাওয়া সুস্থ ইফতারের মূল চাবিকাঠি।
ঝাল ও মসলাদার খাবার: চাটনি বা মসলাদার খাবার গ্যাস্ট্রিক ও বুকজ্বালার ঝুঁকি বাড়ায়। আগে থেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে এটি আরও ক্ষতিকর।
প্রোটিন ও সবজি কম খাওয়া: ইফতারে প্রোটিন ও সবজি না থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, দ্রুত ক্ষুধা লাগে এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
খাওয়ার পর শুয়ে পড়া: খাবারের সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া গ্যাস্ট্রিক ও এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়ায় এবং দ্রুত ওজনও বাড়তে পারে।
কীভাবে ইফতার স্বাস্থ্যকর হবে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইফতার হওয়া উচিত হালকা ও পরিমিত। পানি ও খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙুন, ভাজাপোড়া ও চিনি কম খান। এর পরিবর্তে শাকসবজি, প্রোটিন এবং হালকা কার্বোহাইড্রেট রাখুন।
রমজান কেবল না খেয়ে থাকার মাস নয়; এটি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ। সচেতন ইফতার পদ্ধতি অনুসরণ করলে এ মাসটি শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিকার অর্থেই উপকারী হয়ে উঠতে পারে।
-1772519509.jpg)