মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রথম নারী শিক্ষার্থী য়াপাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রথম নারী শিক্ষার্থী য়াপাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রথম নারী শিক্ষার্থী য়াপাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো তরুণী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন য়াপাও ম্রো।বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম একটি গ্রাম নিশিপাড়া। এটি রুমা উপজেলার ৩ নম্বর রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের অন্তর্গত।বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম চারদিকে পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা। এখানকার মানুষের প্রতিদিন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সুপেয় পানি বা হাসপাতাল—কিছুই সহজলভ্য নয়। তবে এই অভাবের মধ্যেও তাদের জীবনের অবলম্বন প্রকৃতিই।

প্রকৃতির এ রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে বেড়ে উঠা য়াপাও ম্রোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শুধুমাত্র তার একার সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো ম্রো জাতিগোষ্ঠির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

 


এ ঘটনা ম্রোদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও সম্মানের। অবশ্য এই কৃতিত্ব অর্জনে অদম্য এই তরুণীকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। 

বান্দরবানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যায় ম্রোদের অবস্থান দ্বিতীয়। কিন্তু পাহাড়ের অন্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় তারা অনগ্রসর। জুমচাষনির্ভর এই নৃগোষ্ঠীর বেশির ভাগই লিখতে-পড়তে পারে না।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের নিশিপাড়া কঠিন বাস্তবতায় ঘেরা। পাহাড়ি এই গ্রামে আজও বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, হাসপাতাল কিংবা স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা নেই। জুমচাষ নির্ভর জীবিকা এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা ম্রো জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই এখনও লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

ম্রো ভাষার গবেষক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, এতদিন ম্রো সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কোনো তরুণীর উদাহরণ ছিল না। য়াপাও সেই অচলায়তন ভেঙেছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জাতির আত্মবিশ্বাস জাগানোর ঘটনা।

চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় য়াপাওয়ের বাবা পারাও ম্রো একজন দরিদ্র জুমচাষি। নিজের জীবনে শিক্ষা না পেলেও সন্তানদের জন্য আলোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কষ্টের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বারবার মেয়েকে বলতেন, ‘আমরা তো চোখ থাকতে অন্ধ ছিলাম, তুই আমাদের আলো হবি।’

দারিদ্র্য, অনগ্রসরতা, কষ্ট ও সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তাঁর এই অর্জন পাহাড়ের প্রতিটি ম্রো কিশোরীর জন্য হবে নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।