শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : একসময় যেখানে চলত বড় বড় নৌযান, সেই লবণদহ নদী এখন দখল, দূষণ ও বর্জ্যের চাপে অস্তিত্ব সংকটে। নদীর হারিয়ে যাওয়া নাব্যতা ও নৌপথ পুনরুদ্ধারের দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুরে মানববন্ধন ও প্রতীকী কাগজের নৌকা ভাসানোর কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কের মাওনা ব্রিজ এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল, নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন এবং সচেতন নাগরিক সমাজ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধন শেষে লবণদহ নদীতে সাদা কাগজের নৌকা ভাসিয়ে নদীর বর্তমান দুর্দশার প্রতিবাদ জানান অংশগ্রহণকারীরা। বক্তারা বলেন, একসময় এ নদী স্থানীয় যোগাযোগ, জীবিকা ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।
শ্রীপুর নদী পরিব্রাজক দলের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক নিতু চৌধুরী বলেন, “লবণদহ নদীর তীরে এখনো নিয়মিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত হতাশ করে। এর আগেও আমরা মানববন্ধন করেছি, তখন কিছু বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও সেখানে ময়লা ফেলা শুরু হয়েছে।
প্রতিবাদ ও আক্ষেপ থেকেই আজ আমরা সাদা কাগজের নৌকা ভাসিয়েছি। একসময় এ নদীতে বড় বড় নৌকা চলত, লবণদহ ‘লবণ সাগর’ নামেও পরিচিত ছিল। অথচ এখন নদীর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
শ্রীপুর নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি সাঈদ চৌধুরী বলেন, “কাগজের নৌকা ভাসানোর মাধ্যমে আমরা একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছি। নদীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও বিশুদ্ধ পরিবেশ ফিরে এলে কীভাবে জীবন ও প্রকৃতি বিকশিত হতে পারে, সেটিই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, “নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রাণ। নদী রক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ জরুরি। লবণদহ নদী পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
শ্রীপুর নদী পরিব্রাজক দলের সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল বলেন, “লবণদহ নদীকে ঘিরে একসময় জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছিল। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে এনে নৌপথ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নদী দখলমুক্ত করা, দূষণ বন্ধ, নিয়মিত খনন এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লবণদহ নদীর নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তাদের মতে, নদী রক্ষার মধ্য দিয়েই পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
