রবিবার (২)আগষ্ট রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ২ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্তাকা এলাকায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ কার্যক্রমে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমির মালিক শহিদুল হক (শইক্যা) এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত মিজান নামে এক ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে পাহাড় কেটে ব্যাপক পরিমাণে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এলাকার বাইরে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে মাটির ক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাহাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চলমান বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যেকোনো সময় ভূমিধসের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি এবং আশপাশের বসতবাড়ির জন্যও
হুমকিস্বরূপ। তারা অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল হক (শইক্যা) ও মিজানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,
