শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : নিভৃত পল্লীর বুক চিরে বয়ে গেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির সড়ক। গোসিঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর পটকা গ্রামের সেরার খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় থাকলেও মেলেনি কার্যকর সংস্কার। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। অবশেষে অবহেলার সেই পরিণতিতে ব্রিজটিতে দেখা দিয়েছে বিশাল ফাটল, তৈরি হয়েছে ধসে পড়ার আশঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্রিজটির দুই পাশে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে ফাটল আরও বড় আকার ধারণ করলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিজের এক পাশে সতর্কতামূলক লাল নিশান টানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে যেকোনো সময় ব্রিজটির অংশবিশেষ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “ব্রিজটি অনেক দিন ধরেই নড়বড়ে ছিল। আমরা বিভিন্ন সময় বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় সবাই আতঙ্কে আছি। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এলাকাবাসী জানান, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। ব্রিজে বড় ফাটল দেখা দেওয়ার পর যাতায়াতে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, “ব্রিজে ফাটলের বিষয়টি জেনেছি। প্রকৌশলীরা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি জানানো হলেও কেন আগে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বড় কোনো দুর্ঘটনার পরই কি নড়েচড়ে বসবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর
