সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, ভুক্তভোগীর থানায় অভিযোগ

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, ভুক্তভোগীর থানায় অভিযোগ

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, ভুক্তভোগীর থানায় অভিযোগ

মানিকগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রকেট এজেন্টের কর্মী মো. আশিকুর রহমানের (২৪) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের দেবেন্দ্র কলেজ এলাকার ফ্রেন্ডস কম্পিউটার ও মুনা কম্পিউটার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রকেট এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রহমান রকেট অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জের কথা বলে ফ্রেন্ডস কম্পিউটার দোকানে যান। তার অনুরোধে দোকানের মালিক মো. সুজন মিয়া অভিযুক্তের বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে ওই টাকা রকেট নম্বরে পাঠানোর কথা থাকলেও আশিকুর কিছু সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে যাবে বলে দোকান থেকে চলে যান। কিন্তু নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছালে সুজন মিয়া তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

একই কৌশলে মুনা কম্পিউটার দোকানের শেয়ারহোল্ডার মো. মনির হোসেনের কাছ থেকেও ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রকেট লেনদেনে সাময়িক সমস্যার কথা বলে এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একই ধরনের কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, “আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানালে তিনিও কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। প্রায় এক বছর ধরে আশিকুরের সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি তার পরিবর্তে নতুন কাউকেও আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবেই বিশ্বাস করেছি এবং সেই আস্থার ভিত্তিতেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার ছোট ভাই ও বাবা আমিনুর রহমানের সঙ্গে।

আছে, আমি জানি না। ছেলের সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখন শুধু টাকা পাঠানোর কথা বলে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও কোম্পানির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আশিকুরের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

রকেট ডিস্ট্রিবিউটর মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ আছে কি না, দেখে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুহাম্মদ সুজন মোল্লা 
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি