বলিউডের ‘কাপুর’ পরিবারের গর্বিত উত্তরসূরী করিশ্মা কাপুর ৯০ এবং ২০০০-এর দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং চারবার ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।
মুম্বাইয়ে জন্ম ও বেড়ে ওঠা করিশ্মার পরিবার বলিউডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাঁর মা ববিতা ছিলেন একজন অভিনেত্রী এবং বাবা রণধীর কাপুর কিংবদন্তি কাপুর পরিবারের সদস্য। যদিও তার বাবা মেয়েদের অভিনয়ে আসা পছন্দ করতেন না, তাই পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যেও করিশ্মা নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যান। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং ১৯৯১ সালে ‘প্রেম কাইদি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।
তিনি একে একে ‘জিগর (১৯৯২)’, ‘আনারি (১৯৯৩)’, ‘রাজা বাবু (১৯৯৪)’, ‘কুলি নম্বর ১ (১৯৯৫)’, ‘সাজন চলে সসুরাল (১৯৯৬)’ - এর মতো হিট ছবিতে কাজ করে জনপ্রিয়তা পান।
১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার রোমান্টিক ছবি ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ করিশ্মাকে এনে দেয় সুপারস্টার খ্যাতি এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার।
পরের বছর ‘দিল তো পাগল হ্যায় (১৯৯৭)’ ছবির পার্শ্বচরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হন।
তার অভিনিত বহুজনপ্রিয় ছবিগুলোঃ
হিরো নম্বর ১ (১৯৯৭), বিবি নম্বর ১ (১৯৯৯), দুলহান হাম লে জায়েঙ্গে (২০০০), হাম সাথ সাথ হ্যায় (১৯৯৯)
সবগুলো ছবিই বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা পায়।
২০০০-এর দশকের সূচনায় তিনি ‘ফিজা (২০০০)’ ও ‘জুবেইদা (২০০১)’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রী ও সমালোচক পুরস্কার জয় করেন।
২০০৪ সালে তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নেন। এরপর ২০১২ সালে ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ ছবিতে এবং ২০২০ সালে ওয়েব সিরিজ ‘মেন্টালহুড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আবার পর্দায় ফেরেন।
তাঁর ছোট বোন কারিনা কাপুর খান নিজেও একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং অভিনেতা সাইফ আলী খানের সহধর্মিণী।
বলিউডে নারীর স্বাবলম্বিতা ও শৈল্পিক উৎকর্ষতার এক উজ্জ্বল প্রতীক করিশ্মা কাপুর।