বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর

হায়রে মানুষ, রঙ্গীন ফানুস
দম ফুরাইলেই ঠুস...
তবু তো ভাই, কারোরই নাই একটুখানি হুঁশ!
— এই অমর পংক্তিগুলো যেন শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জীবনদর্শনকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

বাংলা গানের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম এন্ড্রু কিশোর। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মাতা মিনু বাড়ৈ ছিলেন রাজশাহীর একটি হাসপাতালে কর্মরত। সংগীতপ্রেমী মা মিনু বাড়ৈ তার প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমারের নামে সন্তানের নাম রাখেন ‘কিশোর’— সেই নামই পরিণত হয় বাংলা গানের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ে।

ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের হাতেখড়ি হয় মায়ের কাছেই। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা করেন। শৈশব-কৈশোর ও যৌবন— সবটাই কাটে রাজশাহীর মাটিতে।
আমাদের জীবনের অনুভূতিগুলো যে কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে, তিনি এন্ড্রু কিশোর।
“সবাই তো ভালোবাসা পায়, কেউ পায়, কেউবা হারায়...”
— এমন কত শত গান, কত অশ্রুভেজা স্মৃতি— যা বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে রেখেছে তাকে।
‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাত এই শিল্পী পেয়েছেন—
- ৭ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার,
- ৫ বার বাচসাস পুরস্কার,
- ২ বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার,
এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য সম্মাননা ও অনুরাগীদের হৃদয় জয় করার স্বীকৃতি।
২০২০ সালের ৬ জুলাই, সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৬৪ বছর বয়সে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। তার প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলা সংগীতাঙ্গন।

 

২০২৪ সালে, বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদক-এ ভূষিত করে, তার সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
ব্যক্তি এন্ড্রু কিশোর ছিলেন একাধারে একজন স্নেহময় স্বামী ও পিতা। স্ত্রী লিপিকা অ্যান্ড্রু ইতির সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন, কন্যা মিনিম অ্যান্ড্রু সংজ্ঞা ও পুত্র জয় অ্যান্ড্রু সপ্তককে ঘিরেই ছিল তাঁর পারিবারিক জগত।
তিনি সত্যিই চলে গেছেন, আমরাও একদিন চলে যাবো,


তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—
“তিনি বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টির মধ্যে।
আমরা কি বাঁচতে পারব আমাদের সৃষ্টির মধ্যে?”
আজ কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই…
আপনিই আমাদের হৃদয়ের গহীনে চিরজাগরুক এক কণ্ঠ।
শ্রদ্ধাভরে স্মরণে... এন্ড্রু কিশোর।