নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একাধিক হত্যা, নাশকতা এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে দীর্ঘ নজরদারির পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজারে সংঘটিত আলোচিত ‘রামগঞ্জ ট্রাজেডি’ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং বুথ দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারার মতো নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেপ্তারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতেন।
সংবাদ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের ভূমিকা ছিল সহিংস। গত ৪ আগস্ট জেলা শহরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজের ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে সদর থানায় দায়েরকৃত একাধিক মামলায় (জিআর-২৬৯/২৪ ও জিআর-২৬৭/২৪) উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে রামগঞ্জ ট্রাজেডি ও জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নাশকতার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এ আর বাদশা
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
