পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা ও মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে সালমা আলম লিলি তালুকদারকে দেখতে চায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল আলম তালুকদারের সহধর্মিণী লিলি তালুকদারকে ঘিরে বাউফল উপজেলা ও পৌর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালমা আলম লিলি তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের রাজনীতিতে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ। তিনি বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বাউফল থেকে শুরু করে ঢাকার কর্মসূচিগুলোতেও তার সাহসী উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি স্থানীয়ভাবে দলকে সংগঠিত ও সক্রিয় রাখতে কাজ করে গেছেন।
বাউফল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা বলেন, “লিলি তালুকদার একজন লড়াকু ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী। কঠিন সময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছেন। বর্তমানে বাউফল বিএনপি একটি সংকটময় সময় পার করছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর অনেক নেতা-কর্মী হামলা, নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তার মতো নেতৃত্বের প্রয়োজন।”
স্থানীয় ছাত্র ও যুব কর্মীরাও জানান, লিলি তালুকদার কেবল রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বাউফলবাসীর আবেগ ও তৃণমূলের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে সালমা আলম লিলি তালুকদার বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশেও আমি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছি। দীর্ঘ স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি। বাউফলে বিএনপিকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দল যদি আমাকে বড় পরিসরে কাজের সুযোগ দেয়, তাহলে আমি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাউফলে অনেক নেতা-কর্মী সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে তৃণমূলের মনোবল ধরে রাখতে অভিজ্ঞ ও সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।”
উল্লেখ্য, সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার বাউফলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, মাঠের রাজনীতিতে সালমা আলম লিলি তালুকদারের সক্রিয় ভূমিকা দলকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
